রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের র্যাঙ্কিং থেকে জানা যায়। সাধারণত বৃষ্টি হলে ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমে আসে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আইকিউএয়ারের সকাল ৮টা থেকে ৯টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বে সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২২তম, যা গতকাল ছিল ২৬তম। আর ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ৮২, যা গতকাল ছিল ৭৫।
রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সহনীয় থেকে সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে উত্তর বাড্ডা এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৫৩, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
র্যাঙ্কিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— গোড়ান, বারিধারার পার্ক রোড, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, ধানমন্ডি, গুলশান লেক পার্ক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও গুলশান ২-এর রব ভবন।
বিশ্বজুড়ে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায়। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৫৭, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— উগান্ডার কাম্পালা (১৪৯, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর), দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ (১৩৭, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর), ইসরায়েলের জেরুজালেম (১২৪, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও ভিয়েতনামের হ্যানয় (১১৫, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর)।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়
অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।
সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।
যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।
ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।