পরিবেশবান্ধব অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনির এক নারী। মাশরুম থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের পচনশীল কফিনে দেশটির প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সমাহিত হয়েছেন সত্তরের কোঠায় থাকা ক্যারোলিন। গত শুক্রবার নিউ সাউথ ওয়েলসের ফলকনব্রিজে তাঁর শেষকৃত্য শেষে ব্লু মাউন্টেনসের স্প্রিংউড কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইনডিপেনডেন্ট’ জানায়, পরিবারের অনুরোধে ক্যারোলিনের পদবি প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী ডোনাল্ড বলেন, মৃত্যুর পরও প্রকৃতির জন্য কিছু করে যাওয়ার সঙ্গে ক্যারোলিনের ব্যক্তিত্বের গভীর মিল রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘মৃত্যুর পরও সে অন্যদের জন্য কিছু করতে পারছে এবং প্রকৃতিকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারছে—এটাই তার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই।’
ক্যারোলিনের জন্য ব্যবহৃত কফিনটি তৈরি করেছে নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান লুপ বায়োটেক। মাশরুমের শিকড় সদৃশ জালিকা বা মাইসেলিয়াম এবং কৃষি বর্জ্য থেকে পাওয়া হেম্পের তন্তু দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার কক্ষে একটি ছাঁচের চারপাশে এসব উপাদান দিয়ে কফিনটি তৈরি হতে সময় লাগে প্রায় এক সপ্তাহ। মাটিতে দাফনের পর প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যেই এটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বিপরীতে প্রচলিত কাঠের কফিন মাটিতে পুরোপুরি মিশে যেতে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে।
লুপ বায়োটেকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বব হেনড্রিক্স বলেন, তাঁদের লক্ষ্য এমন একটি ‘জৈব অবক্ষয়যোগ্য আবরণ’ তৈরি করা, যা পরিবেশে দূষণ না ছড়িয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পাঁচ বছর আগে তিনি এই ধারণার উন্নয়ন শুরু করেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কঠোর জীবনিরাপত্তা বিধির কারণে দেশটিতে পণ্যটি আনতে সময় লেগেছে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালনাকারী আশা ডুলি বলেন, গত ১৫ বছরে পরিবেশবান্ধব শেষকৃত্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গত চার-পাঁচ বছরে। তাঁর মতে, এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা।
অস্ট্রেলিয়ায় বছরে প্রায় দুই লাখ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়। দাফনের তুলনায় দাহের অনুপাত প্রায় ৭০:৩০। এর পাশাপাশি ক্ষারীয় জলীয় বিশ্লেষণ এবং মানবদেহকে জৈব উপাদানের সঙ্গে কম্পোস্টে পরিণত করার মতো বিকল্প পদ্ধতিও জনপ্রিয় হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে মানবদেহ কম্পোস্ট করার বৈধতা দিতে জুনে একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে।