ভারতের ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকার সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, ঝাড়খণ্ড এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব ঝাড়খণ্ড এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কায় দেশের চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে পানির সমতল ৯ দশমিক ৫৪ মিটার, বিপৎসীমা ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এই স্টেশনে পানি ৯ সেন্টিমিটার কমেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সিলেটের জাফলংয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার এবং লাটুতে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে ভারতের মিজোরামের আইজলে ৭০ মিলিমিটার এবং মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চেরাপুঞ্জি-মৌসিনরামে বৃষ্টি হয়েছে ৫২ মিলিমিটার।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী তিন দিনে তিস্তা, গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী ও সাঙ্গুসহ কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে। তিস্তা এরই মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের কিছু এলাকায় তিস্তার পানি সতর্কসীমায় থাকতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় আপাতত পানি কমার প্রবণতা থাকলেও কুশিয়ারা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী এক দিন পানি কমতে পারে, এরপর দুই দিন স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
ময়মনসিংহের সোমেশ্বরী নদীও নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী এক দিন এ অঞ্চলের নদীগুলোর পানি কমলেও পরবর্তী দুই দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি কমছে এবং আগামী দুই দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে পানি বাড়তে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও টঙ্গীখাল নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিনও এসব নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
উপকূলীয় নদীগুলোতে অবশ্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার চলছে। কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, রূপসা-ইছামতী, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালে এ প্রবণতা রয়েছে। আগামী এক দিন এর প্রভাব থাকতে পারে।
দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬টিতে পানি বেড়েছে, কমেছে ১০১টিতে। কোনো স্টেশনে পানি স্থিতিশীল ছিল না। বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে একটি স্টেশন।