হোম > পরিবেশ

ঢাকার বাতাসে বেড়েছে দূষণ, সবচেয়ে বেশি গুলশানে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের র‍্যাঙ্কিং থেকে জানা যায়, আজ সকালে ঢাকার বাতাস সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইকিউএয়ারের সকাল ৯টা থেকে ১০টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বে সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৮ম আর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১২০।

রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সহনীয় থেকে সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৪৭, যা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।

র‍্যাঙ্কিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, গুলশান লেক পার্ক, উত্তর বাড্ডা, বারিধারা পার্ক রোড, বারিধারা লেকসাইড, ধানমন্ডি, গোড়ান ও গুলশান ২-এর রব ভবন।

ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।

বিশ্বজুড়ে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে মিশরের কায়রোতে। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৭২, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।

আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৭০, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর),উগান্ডার কাম্পালা (১৫০, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), পাকিস্তানের লাহোর (১৪০, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৩১, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর)।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।

বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

তীব্র গরমে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি ১.৮ বিলিয়ন ডলার: বিশ্বব্যাংক

সারা দেশে টানা বর্ষণের আভাস, ঢাকার তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

ট্রাম্পের সীমান্তপ্রাচীরের পথে শতবর্ষী এই গাছ কি রক্ষা পাবে

বাঘ রক্ষায় ও পাচার রোধে সরকার জিরো টলারেন্সে: পরিবেশমন্ত্রী

দেশে বাঘ আছে ১২৫টি

বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করার দাবি বর্জ্যজীবীদের, কর্মসংস্থান রক্ষার আহ্বান

বাঘ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকার বাতাসে দূষণ বেড়েছে, ধানমন্ডির বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা

আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা সারা দেশে, কমবে তাপমাত্রা

টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, গভীর নিম্নচাপটির অবস্থা যেমন জানা গেল