বঙ্গোপসাগরে আবারও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জুলাই মাসে দুটি নিম্নচাপ এবং একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলো। এর আগের একটি লঘুচাপ কিছুটা শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছিল, এর পর সারা দেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পরের লঘুচাপটি শক্তিশালী না হলেও এর প্রভাবেও দেশজুড়ে বৃষ্টি ঝরেছে।
নতুন করে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই বললেই চলে। তবে এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, নিম্নচাপের কেন্দ্রে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আজ সোমবার সকালে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আজ দুপুর অথবা বিকেলের মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অথবা ওডিশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে চলে আসতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ আজ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খুলনা, চট্টগ্রাম বরিশাল হলে রাজশাহী বিভাগের কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে রাজধানী ঢাকায় সামান্য পরিমাণ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে।