লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় টায়ার শহরের কাছে গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত প্রখ্যাত সামুদ্রিক পরিবেশবিদ মোনা খলিল মারা গেছেন।
গতকাল শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সী এই পরিবেশবিদের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নিশ্চিত করেছে।
মোনা খলিল যেদিন শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন, সেদিনই দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা আরও জোরদার করে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি ভঙ্গুর শান্তিচুক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ইসরায়েল এই নতুন হামলাগুলো চালিয়েছে।
লেবাননের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘লাইভ লাভ টায়ার’ ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা মোনা খলিলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছি। তিনি এক অনন্য কীর্তি রেখে গেছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মোনা এই অঞ্চলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং কচ্ছপগুলোর যত্ন নিয়েছেন। তাঁর জীবন ছিল পরার্থপর ও সমাজে প্রভাবশালী।’
১৯৪৯ সালে নাইজেরিয়ার লাগোসে জন্মগ্রহণ করেন মোনা খলিল। জীবনের দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটানোর পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থায়ীভাবে চলে আসেন। ১৯৯৯ সালে টায়ারের কাছে আল-মানসুরি সৈকতে ডিম পাড়তে আসা একটি সামুদ্রিক কচ্ছপের সঙ্গে আকস্মিক এক দেখাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর পর থেকে বন্য প্রাণী সুরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেন তিনি।
লেবাননের দক্ষিণ উপকূলে বিলুপ্তপ্রায় লগারহেড এবং সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বাঁধার স্থানগুলো রক্ষায় প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করেছেন মোনা। উপকূলীয় অঞ্চলের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, প্লাস্টিক দূষণ, মাছ ধরার ক্ষতিকর জাল এবং কৃত্রিম আলোর কারণে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে এই দুই প্রজাতির কচ্ছপ চরম বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
কচ্ছপ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসারে মোনা খলিল ২০০০ সালে আল-মানসুরি সৈকতে ‘অরেঞ্জ হাউস’ নামে একটি প্রকল্প গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ লেবাননের সামুদ্রিক জীবন নথিবদ্ধ করার কাজ এবং উপকূলীয় দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মোনা খলিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লেবাননের পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মোনা খলিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী ফাদিয়া জুমা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তবু আপনি আমাদের হৃদয়ে, আপনার সন্তানদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’
ফাদিয়া জুমা আরও যোগ করেন, ‘মোনা খলিলের মৃত্যু পুরো লেবাননের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি...কেবল আমাদের জন্য নয়। যে বন্য প্রাণী ও পরিবেশকে আপনি এত বিশ্বস্ততার সঙ্গে আগলে রেখেছিলেন, এটি সেই প্রাণের এক বিরাট ক্ষতি।’