সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পারফেক্ট’ ছবি বা ভিডিও তুলতে গিয়ে হাঙরের খুব কাছে চলে যাচ্ছেন অনেক ইনফ্লুয়েন্সার। এতে যেমন মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি বিরক্ত ও চাপগ্রস্ত হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণীও। গত এক বছরের কম সময়ে অন্তত তিনজন ইনফ্লুয়েন্সার হাঙরের কামড়ের শিকার হয়েছেন।
ব্রাজিলের ৩৭ বছর বয়সী আইনজীবী ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তাইয়ানে দালাজেন গত এপ্রিলে দেশটির উপকূলে হাঙর-ডাইভিংয়ে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। পানির ওপর অস্বাভাবিক সংখ্যক হাঙর দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, পর্যটকদের কাছে হাঙর টেনে আনতে আয়োজকেরা প্রাণীগুলোকে খাবার দিচ্ছিলেন।
বিবিসি জানিয়েছে, সেদিন হঠাৎ একটি সাত ফুটের বেশি লম্বা নার্স শার্ক দালাজেনের ঊরুতে কামড় বসায়। কয়েক সেকেন্ড পানির নিচে আটকে রাখার পর হাঙরটি ছেড়ে দিলে তিনি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাঁর ঊরুতে গভীর ক্ষত হয়। ঘটনাটির ভিডিও পরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোটি কোটি বার দেখা হয়। দালাজেন বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য সেখানে যাননি বা হাঙরকে উত্ত্যক্ত করেননি। তবে স্বীকার করেছেন, তিনি প্রাণীগুলোর খুব কাছাকাছি ছিলেন।
হাঙরের কামড়ে মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাঙরের সঙ্গে ছবি বা ভিডিও ধারণের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। হাঙরবিষয়ক গবেষক ক্রিস্টিয়ান পার্টন জানান, প্রতি সপ্তাহেই এমন ভিডিও তাঁর চোখে পড়ছে, যেখানে মানুষ হাঙরকে স্পর্শ করছে, খুব কাছে সাঁতার কাটছে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাঙরের পিঠেও চড়ছে।
আন্তর্জাতিক শার্ক অ্যাটাক ফাইলের গবেষকেরাও গত তিন বছরে হাঙরের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে মানুষের কামড় খাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে বিশ্বজুড়ে মানুষের ওপর হাঙরের বিনা প্ররোচনায় হামলার সংখ্যা গত ৩০ বছরে মোটামুটি স্থির—বছরে প্রায় ৭০ টি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ যখন হাঙরের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়ে, তখন প্রাণীটি আত্মরক্ষামূলক বা অনুসন্ধানী কামড় দিতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের স্পর্শ ও অতিরিক্ত কাছে যাওয়া হাঙরের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, যা তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানো, মৃত্যুহার বাড়ানো এবং প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হাঙর নিয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ওশান রামসে অবশ্য দাবি করেন, তাঁর উদ্দেশ্য বিনোদন নয়, হাঙর সংরক্ষণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। তবে বিশেষজ্ঞ জ্যাক কুপার তাঁর যুক্তিকে নাকচ করে বলেন, হাঙরকে স্পর্শ করা বা তার ওপর চড়া সংরক্ষণে কোনোভাবেই সহায়তা করে না।
বিশ্বজুড়ে হাঙর-সাঁতার ও ডাইভিংয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—একটি নিখুঁত ছবি বা ভিডিওর জন্য হাঙরের খুব কাছে যাওয়া মানুষের জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি প্রাণীগুলোর জন্যও ক্ষতিকর।