পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, আইন প্রয়োগ ও নীরব এলাকা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণের বিষয়টি শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার, বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. লুৎফর রহমান।
সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২৫ জারির পর থেকে ডিএমপি ২৯ হাজার ৪৭৮টি মামলা করেছে এবং ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
সমাপনী কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত দেশের ৬৪ জেলার শব্দমাত্রাবিষয়ক জরিপ প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জানানো হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে ১৬টি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটিএ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ডিএমপির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শব্দদূষণ বিষয়ে বিশেষ সেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ২৩টি টেলিভিশন চ্যানেলে ৭ হাজার ৬২৩ মিনিট সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার, দুটি এফএম রেডিওতে প্রচারণা, জাতীয় দৈনিকে ৩০০টি রঙিন বিজ্ঞাপন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা শহরে ১২৮টি সচেতনতামূলক বিলবোর্ড এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে ২১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ৩০০টি সাউন্ড মিটার বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের একটি অংশও নীরব এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।
আইন প্রয়োগ জোরদার করতে ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০০৬’ হালনাগাদ করে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন, আবাসন সমিতি এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।