সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সে সঙ্গে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দিনের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা উপকূল এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এই অবস্থায় আগামীকাল বুধবারও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি থাকতে পারে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আগামী শুক্রবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কিছু জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পরদিন শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে। এ সময়ে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।