হোম > পরিবেশ

সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির বিষয়ে তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে দুটি রিং-টেইলড লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, লেমুর দুটি কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় যাঁরা দায়ী থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘সাফারি পার্ক থেকে যদি বন্য প্রাণী চুরি হয়, তাহলে তো আমাদের ব্যর্থতা বলতেই পারেন। কিন্তু মারা গেলেও বলে চুরি হয়েছে। এগুলো আমরা দেখতেছি।’ তিনি আরও বলেন, পরিচর্যার অভাবে যেন কোনো বন্য প্রাণী মারা না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

চুরি হওয়া লেমুরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যে লেমুর দুটি সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়েছে, সেই লেমুর দুটি বাংলাদেশে এল কীভাবে? এটারও তো কোনো খবর নেই। যখন যাচাই-বাছাই করেছি, তখন দেখা গেছে, লেমুর দুটি বাংলাদেশে আসাটাও অবৈধ ছিল। সেটা সাফারি পার্ক থেকে আবার চুরি হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমরা তদন্ত করতেছি। ভারতের আম্বানির চিড়িয়াখানায় যে দুটি লেমুর দেখা গেছে, ওই দুইটা এখান থেকে গেছে, সেটা বলা যাবে না। কারণ, ওইটা আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি।’

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে পিকনিক বন্ধ রয়েছে। মাইক বাজানো, রান্না ও খাওয়াদাওয়ার মতো বিষয়গুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানুষের বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হবে।

সাফারি পার্কের সীমানাপ্রাচীর টপকে বেরিয়ে যাওয়া নীলগাই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান বনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পার্কের জরাজীর্ণ সীমানাপ্রাচীরের অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পার্কের রাস্তাঘাটের অবস্থাও খারাপ। এগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পার্কের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পাশাপাশি নতুন বন্য প্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। পার্কের জন্য দুটি জিরাফ আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামসুল আরেফিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।