হোম > পরিবেশ

বিরল ভাইপারের লেজে ‘মাকড়সা’, এক্স-রে করে মিলল চমকপ্রদ তথ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সিএনএন

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম জাগরোস পর্বতমালায় এমন এক বিরল সাপের দেখা মেলে, যার লেজের ডগা দেখতে অবিকল মাকড়সার মতো। সাপের এমন বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিন ধরেই বিস্মিত করেছে। এবার এক্স-রে প্রযুক্তিতে সাপটির লেজের ভেতরের গঠন পরীক্ষা করে গবেষকেরা আরও চমকপ্রদ তথ্য পেলেন। তাঁরা দেখেছেন—লেজের ‘মাকড়সা’ অংশটিতে কোনো হাড় নেই।

‘স্পাইডার-টেইলড হর্নড ভাইপার’ নামে পরিচিত বিষধর এই সাপ শুষ্ক ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বাস করে। এর শরীরের রুক্ষ বাদামি-ধূসর রং পাথরের সঙ্গে মিশে যায়। আর লেজের কালচে ডগাটি মাকড়সার মতো নড়াচড়া করে। শিকারি পাখি দূর থেকে সেটিকে মাকড়সা ভেবে কাছে এলে সাপটি আচমকা আক্রমণ করে।

১৯৬৮ সালে ইরানে এই প্রজাতির একটি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তখন লেজের অদ্ভুত গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষক সারা রুয়ানের ভাষ্য, প্রথম দেখায় অনেকেরই মনে হয়েছিল লেজে হয়তো কোনো টিউমার, পরজীবী বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রয়েছে। ২০০৩ সালে একই ধরনের আরেকটি নমুনা পাওয়ার পর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এটি আসলে প্রজাতিটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। ২০০৬ সালে সাপটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়— Pseudocerastes urarachnoides।

সম্প্রতি রুয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা সাপটির ‘হোলোটাইপ’ নমুনায় এক্স-রে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (এক্সসিটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে কোনো ক্ষতি না করেই দেহের ভেতরের অংশের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা যায়।

গবেষণার প্রধান লেখক ও পোলিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের প্রাণিবিজ্ঞানী জর্জিওস জর্জালিস জানান, তাঁরা ধারণা করেছিলেন, লেজের মাকড়সার মতো অংশের ভেতরের কশেরুকাগুলো হয়তো অস্বাভাবিক ধরনের হবে। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, লেজের কশেরুকা অন্য ভাইপার সাপের মতোই স্বাভাবিক।

তাহলে মাকড়সার মতো অংশটি কী দিয়ে তৈরি? গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, এটি মূলত লম্বা ও পরিবর্তিত আঁশ দিয়ে গঠিত। সেখানে কোনো হাড় নেই।

এই আবিষ্কার জীবাশ্মবিজ্ঞানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। জর্জালিস বলেন, এই সাপের শুধু কঙ্কাল পাওয়া গেলে আজকের বিজ্ঞানীরা তার মাকড়সার মতো লেজের আকৃতি কল্পনাই করতে পারতেন না। অর্থাৎ, জীবাশ্ম সব সময় কোনো প্রাণীর সম্পূর্ণ চেহারা বা আচরণের ‘পূর্ণ সত্য’ তুলে ধরে না।

গবেষকেরা মনে করছেন, লেজের এই বিশেষ গঠন ও নড়াচড়া দীর্ঘ বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার ফল। সাপটির নিকটাত্মীয় কয়েকটি প্রজাতির লেজেও অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় এই মাকড়সার মতো লেজ তৈরির পেছনে কোন জিনগত পরিবর্তন কাজ করেছে, তা খুঁজে দেখা হতে পারে।

কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ট শ্যোয়েঙ্কের মতে, সাপটির পূর্বপুরুষদের মধ্যেই সম্ভবত লেজ নাড়ানোর আচরণ ছিল। বিবর্তনের ধারায় সেই পুরোনো আচরণই আরও পরিশীলিত হয়ে এমন অসাধারণ শিকারি কৌশলে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, এটি প্রাণীর আকৃতি ও আচরণকে কীভাবে প্রকৃতি বদলে দিতে পারে, তার এক চমৎকার উদাহরণ।