কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের সীমানার বাইরে অন্তত ১৫টি হাতি মারা গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সন্দেহ করা হচ্ছে, উদ্যান সংলগ্ন খামারগুলোতে কীটনাশক ছিটানো টমেটো খাওয়ার ফলেই বিষক্রিয়ায় প্রাণীগুলোর মৃত্যু হয়েছে।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডাব্লিউএস) জানিয়েছে, মৃত হাতিগুলোর টিস্যু নমুনার প্রাথমিক গবেষণাগার পরীক্ষায় প্রাণঘাতী ‘সায়ানাইড’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি জানায়, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে এই হাতির মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত হাতিগুলোর মধ্যে ১০টি শরীরে পক্ষাঘাত বা অবশ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে মারা যায়। আর অপর পাঁচটি হাতিকে আগেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
মৃত হাতিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের হাতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর এই ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি কেবল নির্দিষ্ট একটি পরিবার বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তবে চলমান তদন্তের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা আপাতত এর পেছনে চোরা শিকারি বা অন্য কোনো পরিকল্পিত অপরাধের (ফাউল প্লে) সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাতিগুলোর খাওয়া এই বিষাক্ত উপাদান মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করবে না।
কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে চোরা শিকার কার্যকরভাবে দমন করার পর এত বিপুলসংখ্যক হাতির মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নথিভুক্ত করা হলো।
আম্বোসেলি পার্ক ও এর আশপাশের বিস্তৃত এলাকা ‘আম্বোসেলি ইকোসিস্টেম’ নামে পরিচিত, যা কেনিয়া থেকে প্রতিবেশী তানজানিয়া সীমান্ত পর্যন্ত প্রসারিত। এলাকাটির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে।
হাতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘আম্বোসেলি ট্রাস্ট ফর এলিফ্যান্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ২ হাজারের বেশি হাতি অবস্থান করছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনা উদ্যানের আশপাশে ক্রমবিকাশমান কৃষি কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাধারণত খাদ্য ও পানির খোঁজে পার্কের সীমানা ছাড়িয়ে পাশের খামারগুলোতে ঢুকে পড়ে হাতি।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি অপরিকল্পিত কৃষি জমি সম্প্রসারণের কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হচ্ছে, যার বলী হতে হচ্ছে এ ধরনের বিরল প্রাণীদের।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় কৃষক ও খামার মালিকদের সচেতন করতে এবং কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস।