বৈশাখের তীব্র খরতাপে সপ্তাহখানেক আগেও অস্থির করে তোলো দেশের জনজীবন। এবার কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টি সৃষ্টি করেছে দুর্ভোগ। মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে রাজধানী ঢাকাবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৭ ঘণ্টায় রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ৫৩ মিলিমিটার। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৭ মিলিমিটার, এর পর ৯টা পর্যন্ত পরবর্তী ৩ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয় আরও ৬ মিলিমিটার।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এ কারণে মোংলা, চট্টগ্রাম, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, পশ্চিমা লঘুচাপ সারা দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে ঝড়-বৃষ্টির দাপট থাকবে আরও কয়েক দিন। আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আজকের পত্রিকাকে বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় থাকায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে কিছুটা কম হলেও পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বরিশালে কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টির পরিমাণ বেশি।
ড. ওমর ফারুক আরও বলেন, আগামী ৫ মে পর্যন্ত কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সারা দেশে। এর পর কিছুটা কমবে। তবে একেবারে ঝড়-বৃষ্টি বন্ধ না-ও হতে পারে।