হোম > পরিবেশ

আরও ৫ দিন বৃষ্টি, তিস্তার জন্য সতর্কতা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। এদিকে তিস্তা নদীর পানি পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে দুর্বল হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

আজ শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আগামী কয়েক দিনও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টির বিস্তৃতি বাড়তে পারে। ১৭ ও ১৮ আগস্টও বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ টিতে পানি বেড়েছে, ৮৮ টিতে কমেছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে একটি নদী একটি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে।

আগামী তিন দিনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

রংপুর অঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে। এতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের কিছু এলাকায় তিস্তা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা সতর্কসীমায় রয়েছে।

অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী কয়েক দিনে বাড়লেও বিপৎসীমার নিচে থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার বিরাজ করছে। কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, রূপসা, শিবসা, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে এ পরিস্থিতি আগামী এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে। বসুরহাটে ৭০, নোয়াখালীতে ৬৬ ও পটুয়াখালীতে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।