সাক্ষাৎকার

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন ভয়েস আর্টিস্ট আসছেন: এ কে আজাদ সেতু

মঞ্চনাটক, টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট কিংবা সিনেমা—সব মাধ্যমে নিয়মিত অভিনয় করছেন এ কে আজাদ সেতু। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ‘সং ফ্রম দ্য সাউথ’ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায়ও প্রশংসিত হচ্ছে তাঁর অভিনয়। এ কে আজাদ সেতুর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিহাব আহমেদ

‘সং ফ্রম দ্য সাউথ’ স্বল্পদৈর্ঘ্যে বাবা-মেয়ের হৃদয়স্পর্শী গল্প ফুটে উঠেছে। শুটিংয়ের সময় কেমন মনে হচ্ছিল?

এখানে আমার অভিনীত চরিত্রটির মেয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত। টাকার অভাবে মেয়েটি চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারছে না। বিষয়টি ভেতর থেকে অনুভব করেই শুটিংয়ের চেষ্টা করেছি। সত্যি বলতে শুটিংয়ের সময় বুক ভারী হয়ে আসছিল। কারণ, আমিও কন্যাসন্তানের বাবা।

বরাবরের মতো এবারও আপনার অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে। দর্শকের এই ভালোবাসা কেমন লাগে?

অভিনয় দিয়ে দর্শকদের কতটুকু কানেক্ট করতে পারলাম, এটাই অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ। যেকোনো কাজ দেখে যখন দর্শক প্রশংসা করে, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

যাঁরা ওটিটি ও সিনেমায় কাজ করেন, তাঁরা সাধারণত নাটকে অভিনয় করতে চান না। এ ক্ষেত্রে আপনি ব্যতিক্রম। সব মাধ্যমে আপনি সমান সরব...

যে অভিনেতা নানা মাধ্যমের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারবেন, অভিনয় দিয়ে কনভিন্স করতে পারবেন, তাঁর কোনো জায়গায় কাজ করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এখন সিনেমা ও ওটিটিতে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বেশির ভাগ টেলিভিশনে কাজ করতেন। তাই শিল্পীর জন্য মাধ্যম কোনো বাধা হতে পারে না। আমার মনে হয়, মাধ্যম নয়, পর্দায় নিজেকে কীভাবে প্রেজেন্ট করছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

চরিত্রের ব্যাপ্তি নিয়েও আপনি চিন্তিত নন...

প্রথমত আমি নিজেকে লাকি বলব যে নির্মাতারা আমাকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে অভিনয়ের জন্য ডেকেছেন। আফজাল হোসেন, তৌকীর আহমেদের মতো অভিনেতার কাছ থেকে শুনেছি, ‘একটা দৃশ্য নাকি ১০টা দৃশ্য, এটা কোনো বিষয় নয়। তুমি যদি একটি দৃশ্যেই যথাযথভাবে অভিনয় করতে পারো, তাহলে সেটাই যথেষ্ট।’ আমার কাজ চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করা। স্ক্রিন-টাইম নিয়ে কখনো চিন্তা করি না। আমার একটাই কথা—যে চরিত্র করছি, গল্পে যেন সেটির গুরুত্ব থাকে।

দেশের ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এখন কাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনটা কেন হলো?

এটা আমার পক্ষে বলা কঠিন। কারণ, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর মার্কেটিংয়ের বিষয় আছে, বাজেটিংয়ের বিষয় আছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে তো আমি কথা বলতে পারব না। তবে গল্প নির্বাচন, বাজেট বা এক্সিকিউশনে আরও মনোযোগ দিতে হবে। ওটিটিতে আমরা অল্পসংখ্যক মানুষ কাজ করছি। এখানে আরও অভিনয়শিল্পীর প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় বিষয়, প্রশিক্ষিত অভিনয়শিল্পী দরকার। আরও অধিকসংখ্যক নির্মাতাকে আসতে হবে এই মাধ্যমে। তাহলেই গল্প, নির্মাণ এবং অভিনয়ে আরও বৈচিত্র্য তৈরি হবে।

আপনি ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করছেন। এই মাধ্যমের সম্ভাবনা কেমন?

গত বছরটাও ভালো গেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ততটা ভালো নয়। সবক্ষেত্রে ব্যয় বাড়লেও ভয়েস আর্টিস্টদের বাজেট বাড়ছে না। যারা নিয়মিত ভয়েসের কাজ করত, এমন অনেক স্টুডিও এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন অল্প কিছু জায়গায় কাজ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মাধ্যমে কাজের জায়গাটা ছোট হয়ে গেছে। ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন ভয়েস আর্টিস্ট আসছেন। এই মাধ্যমে থিয়েটারের ছেলেমেয়েরা যুক্ত হচ্ছে। তারা এখান থেকে উপার্জন করতে পারছে। আশা করি এই মাধ্যম আরও প্রফেশনাল হয়ে উঠবে।

আপনি তো থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। সেখানেও এখনো পেশাদারত্ব তৈরি হয়নি। এর কারণ কী মনে হয়?

আমার থিয়েটার ক্যারিয়ার শুরু পেশাদার থিয়েটার দিয়ে, সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটারে। সেখানে আমরা মাস শেষে একটা বেতন পেতাম। যেখানে অভিনয় করে টাকা পাওয়া যাবে, প্রফেশনাল থিয়েটার বলতে সাধারণত সেটাকেই আমরা বুঝি। কিন্তু টাকা পাওয়ার জন্য আমাকে প্রফেশনাল পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আমরা যদি নাটকের ডিজাইন, স্ক্রিপ্ট কিংবা অভিনয় দিয়ে দর্শককে আকর্ষণ করতে পারি, তাহলেই দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। থিয়েটার অত্যন্ত শক্তিশালী একটা মাধ্যম। এটাকে ভলান্টিয়ারের জায়গায় নিয়ে গিয়ে আমরা দুর্বল করে ফেলেছি। যাঁরা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের এ নিয়ে ভাবা উচিত, সরকারের পক্ষ থেকেও ভাবা উচিত। পাশাপাশি করপোরেট হাউসগুলোকে কনভিন্স করে এখানে নিয়ে আসা উচিত। তাহলে এই মাধ্যম আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।