সাক্ষাৎকার

মনে হচ্ছে দেড় যুগ আগে ফিরে গেছি

১০ বছর পর প্রকাশ পাচ্ছে সংগীতশিল্পী কাজী শুভর একক অ্যালবাম। এতে থাকছে ৯টি গান, প্রকাশ পাবে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে। দীর্ঘদিন পর একক অ্যালবাম প্রকাশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত কাজী শুভ। নতুন অ্যালবাম ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ

এক দশক পর অ্যালবাম প্রকাশ করছেন। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

অনেক বছর পর আবার আমার একক অ্যালবাম প্রকাশ পাচ্ছে, বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের। খুব ভালো লাগছে। আগে যখন অ্যালবাম প্রকাশ করা হতো, তখন যেমন এক ধরনের আনন্দ, এক্সাইটমেন্ট কাজ করত, অনেক দিন পর সেই অনুভূতিটা হচ্ছে। অ্যালবামে যাঁরা কাজ করেছেন, সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।

নতুন অ্যালবামটি সম্পর্কে বলুন।

এটা মূলত ডিজিটাল একক অ্যালবাম। নাম ‘কেউ বুঝলো না’। অ্যালবামে ৯টি গান থাকছে। প্রতিটি গানেই ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করছি শ্রোতারা নিরাশ হবেন না। আগে অ্যালবাম করার সময় যেই প্রসেসে কাজ করতাম, এবারও সেভাবেই করার চেষ্টা করেছি। যাতে শ্রোতারা প্রতিটি গানে আলাদা টেস্ট পান।

গানগুলোর গীতিকার ও সুরকার কারা?

গানগুলোর কথা লিখেছেন তরুণ মুন্সী, প্রয়াত পাগল হাসান, এ মিজান, জিসান খান শুভ, সালাহউদ্দিন সাগর, হুমায়ুন কবির, আরিফ হোসেন বাবু, আলামিন সরকার ও হানিফ খান। সুর করেছেন তরুণ মুন্সী, প্রয়াত পাগল হাসান, জিসান খান শুভ, হুমায়ুন কবির, আলামিন সরকার, আহমেদ সজীব, আদিব কবির, হানিফ খান এবং আমি। অ্যালবামের একটি গানে আমার সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠ দিয়েছেন বাঁধন সরকার পূজা।

এখন তো অনলাইনে একটি করে গান প্রকাশ করা হয়। এমন সময়ে একসঙ্গে ৯টি গান নিয়ে অ্যালবাম করার পরিকল্পনা কী ভেবে করলেন?

অ্যালবামের ভাবনাটা মূলত ধ্রুব মিউজিকের কর্ণধার ধ্রুব গুহ দাদার। অডিওর এই খারাপ সময়ে ধ্রুব দা যে ঝুঁকিটা নিয়েছেন, তার জন্য দাদার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। নিঃসন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও ভালো উদ্যোগ। এই সময়ে তো অ্যালবামের কথা কেউ চিন্তাই করে না। সবাই একক গান করে। এই অ্যালবামটি শ্রোতাদের একসঙ্গে একগুচ্ছ গান উপহার দেবে। অ্যালবাম প্রকাশের এই ধারা নিয়মিত হলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হবে। কারণ, অ্যালবাম প্রকাশ করা গেলে নতুন অনেক গান পাওয়া যাবে।

এখন অনেকে অনলাইনের পাশাপাশি সিডি আকারেও গান প্রকাশ করছে। আপনার অ্যালবাম নিয়ে কি এমন পরিকল্পনা আছে?

কেউ কেউ হয়তো সিডিতে গান করছে। তবে এটা সত্যি যে এখন সিডি চালানোর ডিভাইস সবার কাছে নেই। আবার সিডি প্রকাশ করা হয় না বলে সিডি তৈরির মেশিনও তেমন নেই। তাই সিডি আকারে অ্যালবাম করার কোনো পরিকল্পনা করিনি, সেই সুযোগও নেই। গান প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখন ইউটিউব। আমার নতুন অ্যালবামটিও জুক বক্স আকারে ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে। পাশাপাশি স্পটিফাইসহ দেশি-বিদেশি সব মিউজিক প্ল্যাটফর্মে আসবে।

এখন পর্যন্ত কয়টি অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে আপনার?

আমার প্রথম অ্যালবাম ‘সাদামাটা’ প্রকাশ পায় ২০০৯ সালে। ২০১২ ও ২০১৪ সালে প্রকাশ পায় ‘সাদামাটা ২’ ও ‘সাদামাটা ৩’। এরপর ২০১৬ সালে আরও দুটি অ্যালবাম এসেছিল। একটা হচ্ছে ‘মায়ার আগুন’, অন্যটি ‘দাগা’। এরপর চলে এল অনলাইনের যুগ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার আমার ষষ্ঠ অ্যালবাম আসছে।

১০ বছর পর একক অ্যালবাম, নিশ্চয় পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে?

মনে হচ্ছে প্রায় দেড় যুগ আগে ফিরে গেছি। ২০০৯ সালে প্রথম অ্যালবাম রিলিজের সময় যে অনুভূতি কাজ করছিল, সে রকম একটা অনুভূতি হচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম করার যে তৃপ্তি, সেটা মিস করছিলাম এত দিন।