আজ ঢাকার ১০০ ফুটের মাদানি অ্যাভিনিউর কোর্টসাইডে গান শোনাবেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। ‘মেইন স্টেজ ফিচারিং আতিফ আসলাম’ শিরোনামের কনসার্টে অংশ নিতে গত বুধবার রাতে বাংলাদেশে এসেছেন আতিফ। কনসার্ট ও নিজের নতুন অ্যালবাম নিয়ে গতকাল বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন আতিফ আসলাম। আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এম এস রানা।
বাংলাদেশকে সব সময় আমার দ্বিতীয় বাড়ি মনে হয়। প্রতিবার এখানে অনেক ভালোবাসা পাই। এটি বাংলাদেশে আমার অষ্টম সফর। প্রতিবার এই দেশে আসার অপেক্ষায় থাকি। এবারের কনসার্টে এমন কিছু সংযোজন করতে চাই, যাতে দর্শকের কাছে নতুন কিছু মনে হয়। এমন কয়েকটি গান গাইব যা কনসার্টে সচরাচর গাওয়া হয় না। এ ছাড়া আমার নতুন অ্যালবাম ‘সুবাহ আয়ে না’ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব।
১৮ বছর পর নতুন অ্যালবাম প্রকাশ পাচ্ছে। ভীষণ এক্সাইটেড। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক মেসেজ পেয়েছি নতুন অ্যালবামের জন্য। কবে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ পাবে, কেন প্রকাশ পাচ্ছে না—প্রায় নিয়মিতই এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। অবশেষে ৩১ জুলাই সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে। ওই দিন আমার নতুন অ্যালবাম সুবাহ আয়ে না প্রকাশ পাচ্ছে।
তা হয়তো গাওয়া হবে না। কারণ, অ্যালবামটি রিলিজ হবে আরও এক সপ্তাহ পরে। শ্রোতারা অ্যালবাম থেকেই গানগুলো শুনুক। আবার যখন বাংলাদেশে গাইতে আসব, তখন নিশ্চয়ই অ্যালবাম থেকে গাইব।
আমি যখন মিউজিক শুরু করি সে সময় কখনো ভাবিনি সফল হব। আমার গানের শ্রোতাদের ধন্যবাদ, যাদের কারণে এখানে আমি পৌঁছাতে পেরেছি। এই দীর্ঘ সময়টাতে আমাকে স্টেজ শো আর সিনেমার গান নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। নিজের জন্য সময় বের করতে পারিনি। তাই অ্যালবাম প্রকাশে এত সময় লাগল। এ সময়ে বেশ কিছু গান তৈরি করলেও সেগুলো রিলিজ করতে পারিনি। এ নিয়ে আফসোস ছিল। তবে আমার মনে হয়েছে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করার এখনই সঠিক সময়—আমি যা চাই, যেমন চাই—তা নিয়ে কাজ করার। এখন থেকে নিয়মিত নতুন গান, নতুন অ্যালবামের কাজ করব।
আমার অ্যালবামের গানগুলো নিজের কাছে বেশি পছন্দের। কারণ, এসব গান দিয়ে আমার মনের কথা প্রকাশ করতে পারি। অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি। অ্যালবামের প্রতিটি গান আমার হৃদয়ের খুব কাছের। সেখানে নিজেকে উন্মোচন করা যায়। আমি যা গাইতে চাই সেটা গাইতে পারি। অন্যদিকে, সিনেমার গান অনেকটাই ছকে বাঁধা। কোন পরিস্থিতিতে গানটি ব্যবহার হবে, কোন স্কেলে গাইতে হবে—এগুলো ঠিক করা থাকে। আমি শুধু দৃশ্যগুলোর পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি, এরপর ভয়েস দিই।
কোক স্টুডিও পাকিস্তানে গান করা আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এটা খুব আনন্দের যে মানুষ আমার গানটি পছন্দ করেছে। তবে এর পুরো ক্রেডিট মিউজিক কম্পোজারের। আমি শুধু ভয়েস দিয়েছি। পুরো পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কোক স্টুডিও নতুন মিউজিক নিয়ে কাজ করে। আমিও সব সময় নতুন মিউজিক ও শিল্পীদের খোঁজ করি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের কোক স্টুডিওতেও ভালো কাজ হচ্ছে। আশা করি একদিন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কোক স্টুডিও একসঙ্গে কাজ করবে। এটা দারুণ হবে।
বাংলাদেশের দর্শক সবচেয়ে আলাদা। তারা খুব লাউড, পাশাপাশি খুব ইমোশনাল। পারফর্ম করার সময় তাদের কাছ থেকে যে রেসপন্স পাওয়া যায়, সেটা অন্য কোথাও দেখা যায় না। স্টেজে উঠে আমি যখন ‘আদাত’ গাইতে শুরু করি, তখন সবাই কণ্ঠ মেলায়। অন্য সব গানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশের গান গাইতে পারলে খুব ভালো লাগবে। খুব ইচ্ছেও আছে। তবে আমার বাংলা উচ্চারণে কিছু সমস্যা আছে। সে ক্ষেত্রে আমাকে আগে বাংলা শিখতে হবে ভালো করে। তারপর হয়তো গাওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে আয়োজকদের উদ্যোগ নিতে হবে।
একটি গান করেছি—‘মিঠে আলো’। আরও গান করার ইচ্ছা আছে। এ দেশের মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে কোলাবরেট করাটা দারুণ হবে। কিন্তু তার আগে বাংলা ভাষাটা ভালো করে রপ্ত করতে হবে।
রুনা লায়লাজি আমার খুব পছন্দের। তিনি একজন কিংবদন্তি। তাঁর সঙ্গে একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে কাজ করারও অভিজ্ঞতা আছে। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারা খুব আনন্দের।
এ নিয়ে অষ্টমবার বাংলাদেশে আসা হলো।
বাংলাদেশের খাবারের ভক্ত আমি। বিশেষ করে খিচুড়ি। বিরিয়ানি তো আছেই। এ ছাড়া মালাই চা খুব ভালো লাগে। আমি পৃথিবীর যেখানেই যাই বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করি। আমাকে যখন কেউ প্রশ্ন করে, আমার চায়নিজ কিংবা থাই খাবার পছন্দ কি না। উত্তরে বলি একবার বাংলাদেশ থেকে ঘুরে আসো, সেখানকার খাবার খাও। এরপর আমাকে বলো কোন খাবার পছন্দ।