‘৪৭ রোনিন’খ্যাত হলিউড পরিচালক কার্ল রিনশকে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। গত ২৯ জুন নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতের বিচারক জেড এস র্যাকফ এই রায় দেন। কার্ল রিনশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘হোয়াইট হর্স’ বা ‘কনকোয়েস্ট’ নামের একটি সায়েন্স ফিকশন সিরিজ নির্মাণের জন্য নেটফ্লিক্সের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বিলাসবহুল জীবনযাপনে খরচ করেছেন তিনি।
হোয়াইট হর্স বা কনকোয়েস্ট সিরিজটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যে নেটফ্লিক্সের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ৪৪ মিলিয়ন ডলার বাজেট পান কার্ল রিনশ। সিরিজটির প্রাথমিক কাজ, চিত্রনাট্য তৈরি এবং বিভিন্ন দেশে আংশিক শুটিংয়ের জন্য এই অর্থ তাঁকে দিয়েছিল নেটফ্লিক্স। এই টাকাটা তিনি প্রোডাকশনের পেছনেই খরচ করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো পর্ব জমা দিতে পারেননি।
পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে কার্ল রিনশ নেটফ্লিক্সের কাছে দাবি করেন, সিরিজের প্রোডাকশন শেষ করতে তাঁর আরও ১১ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। জালিয়াতিটা ঘটে এখানেই। আদালতের নথিতে প্রমাণিত হয়েছে, রিনশ এই অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন ডলার সিরিজের কাজে খরচ না করে পুরো অর্থ সরাসরি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন।
প্রোডাকশনের টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পর কার্ল রিনশ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফান্ডের প্রায় অর্ধেক টাকা লস করেন। পরবর্তী সময়ে ক্রিপ্টো থেকে কিছু লাভ এলেও সেই টাকা প্রজেক্টে ফেরত দেওয়ার বদলে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেন। কিনেছেন ৫টি রোলস-রয়েস, একটি ফেরারি গাড়ি, বেশ কিছু ব্র্যান্ডেড ঘড়ি, পোশাক, বিলাসবহুল ম্যাট্রেসসহ অনেক কিছু।
আদালতে শুনানির সময় নিজের ভুল স্বীকার করে বিচারকের সামনে ক্ষমা চেয়ে রিনশ বলেন, ‘এই আইনি প্রক্রিয়া আমাকে আমার স্বাস্থ্য, আমার বিচারবুদ্ধি এবং আমার জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছি, তখন কতটা বিপজ্জনক মানসিক ঘোরের মধ্যে ছিলাম। আমি যে ক্ষতি করেছি, তার জন্য দুঃখিত।’
সরকারি আইনজীবীরা রিনশের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমলে নিয়ে ৩০ মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন বিচারক জেড এস র্যাকফ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের পুরো ১১ মিলিয়ন ডলারই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেল থেকে বের হওয়ার পর পরবর্তী তিন বছর কঠোর নজরদারিতে থাকবেন কার্ল রিনশ।