হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিট তাঁর জীবনের অন্যতম এক অন্ধকার সময়ের কথা প্রকাশ করেছেন। ‘পারিবারিক সমস্যার’ কারণে একসময় তাঁর মনে আত্মহত্যার চিন্তা এসেছিল বলে জানিয়েছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেতা।
সম্প্রতি বিনোদন ও লাইফস্টাইল সাময়িকী ‘এসকোয়ার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, মদ্যপানের সমস্যা এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বিচ্ছেদ-পরবর্তী ব্যক্তিগত টানাপোড়েন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সচরাচর প্রকাশ্যে কথা বলেন না ৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতা। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জীবনে এমন একটি সময় এসেছিল যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং যন্ত্রণার কোনো শেষ দেখতে পাচ্ছিলেন না। নিজের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে পিট বলেন, ‘আমি কখনোই আত্মঘাতী প্রবণতার মানুষ ছিলাম না। এটি আমার স্বভাবের অংশ নয়।’
নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবেই আশাবাদী মানুষ। এই ইতিবাচক মানসিকতা আমাকে বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।’
তবে জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘একটি সংক্ষিপ্ত সময় ছাড়া আমি কখনো আত্মহত্যার কথা ভাবিনি। কিন্তু ওই বিশেষ মুহূর্তে আমি নিজেকে সমানে এগোনোর কোনো পথ দেখতে পাচ্ছিলাম না।’
মানসিক কষ্টের তীব্রতা তুলে ধরে ব্র্যাড পিট বলেন, ‘যন্ত্রণাটা এতটাই ভারী ও দমবন্ধ করা ছিল যে, যদিও আমি বাস্তবে কোনো চরম পদক্ষেপ নিইনি, তবে অনুভূতিটা এমন ছিল যে মাথায় একটি বুলেটের হিমশীতল স্পর্শ আমাকে শান্তি দেবে। তখন আমার মনে হয়েছিল, “ওহ আচ্ছা, এবার আমি বুঝতে পারছি।” আত্মহত্যার পেছনের মূল বিষয়টি যে কেবল কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা তাগিদ, তা আমি অনুধাবন করতে পেরেছিলাম।’
তবে এই চিন্তার পরপরই তাঁর বেঁচে থাকার সহজাত অনুভূতি বা আত্মরক্ষার তাগিদ জেগে ওঠে বলে জানান তিনি। এই মানসিক যন্ত্রণা সন্তানদের সঙ্গে কোনো ঘটনার কারণে তৈরি হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত না গিয়ে পিট সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘পারিবারিক বিষয়... এটি এখানেই শেষ করা যাক।’
হলিউডের এক সময়ের সবচেয়ে চর্চিত জুটি ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, যাদের ভক্তরা ভালোবেসে ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ নামে ডাকতেন, দুই বছর বৈবাহিক জীবন কাটানোর পর ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন। ওই বছরই জোলি আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং তাঁদের ছয় সন্তানের পূর্ণ অভিভাবকত্ব দাবি করেন।
বিচ্ছেদের পর থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দুই তারকার মধ্যে আইনি লড়াই চলে। এর মধ্যে ফ্রান্সে তাঁদের যৌথ মালিকানাধীন ওয়াইন শপ ‘শ্যাটো মিরাভাল’ নিয়ে আইনি জটিলতা এবং ২০১৬ সালে প্রাইভেট বিমানে ভ্রমণের সময় পিটের বিরুদ্ধে জোলির আনা নির্যাতনের অভিযোগ ছিল অন্যতম।
তবে শুরু থেকেই নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন পিট। আদালত ২০১৯ সালে তাঁদের আইনিভাবে আলাদা থাকার অনুমতি দেন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিচ্ছেদ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়।
পিট ও জোলি দম্পতির ছয় সন্তান রয়েছেন—ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শিলো এবং দুই জমজ সন্তান ভিভিয়েন ও নক্স। বিচ্ছেদের পর থেকে বাবার সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক বেশ শীতল। এমনকি সম্প্রতি তাঁদের একাধিক সন্তান নিজেদের নামের পাশ থেকে বাবার পদবি ‘পিট’ বাদ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।