দীর্ঘ ১৮ মাস পর মঞ্চে ফিরছে আরণ্যক নাট্যদলের ৬৬তম প্রযোজনা ‘কম্পানি’। আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে রয়েছে নাটকটির প্রদর্শনী। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ।
ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি, অর্থনৈতিক শোষণ এবং লুণ্ঠিত সম্পদ পাচারের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে কম্পানি। ইউরোপীয় বণিকদের ভারতবর্ষে আগমন থেকে শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক উত্থান, বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নাটকটির মূল উপজীব্য।
নাটকে উঠে এসেছে, কীভাবে বাণিজ্যের আড়ালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বিভাজনের রাজনীতি, ষড়যন্ত্র এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় কোম্পানি বাংলার শাসনব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়ায় রবার্ট ক্লাইভের উত্থান, মীর জাফর ও জগৎশেঠকে ঘিরে ষড়যন্ত্র এবং পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনাও নাটকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নাটকটি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে প্রশ্ন তোলে—ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও লুণ্ঠন, সম্পদ পাচার এবং অর্থনৈতিক শোষণের সংস্কৃতি কি সত্যিই শেষ হয়েছে? নাকি ভিন্ন রূপে তা এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বহমান?
নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছিল। ইতিহাসের সেই অভিজ্ঞতা আজও ভিন্ন রূপে বিশ্বব্যবস্থায় বিদ্যমান। বর্তমান সময়েও বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো অটুট। কারণ, দখলদারত্ব, লুটপাট এবং লুণ্ঠিত সম্পদ বিদেশে পাচারের যে সংস্কৃতি, তা আজও নানারূপে অব্যাহত রয়েছে।’
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, সাজ্জাদ সাজু, আরিফ হোসেন আপেল, কামরুল হাসান, রুবলী চৌধুরী, সাঈদ সুমন, শাহারান খান, সুজাত শিমুল, জুবায়ের জাহিদ প্রমুখ।