বাইকের চেয়ে বরাবরই চার চাকা চালাতে বেশি পছন্দ করতেন উত্তমকুমার। কোনো সিনেমার দৃশ্যে গাড়ি চালানোর শট থাকলে খুবই খুশি হতেন। শোনা যায়, ‘সপ্তপদী’ সিনেমার ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানের দৃশ্যে বাইকের বদলে নাকি গাড়িতে চেপেই শুটিং করতে চেয়েছিলেন তিনি! তবে পরিচালক অজয় করের আপত্তিতে তা সম্ভব না হলেও সে অতৃপ্তি কড়ায় গণ্ডায় মিটেছিল ‘দেয়া নেয়া’ সিনেমায়। এতে তাঁর ছিল ড্রাইভারের ছদ্মবেশ, তাই গাড়ি চালানোর শট ছিল প্রচুর। মাঝে মাঝে নাকি এমনও হতো, পরিচালক কাট বলার পরেও উত্তমকুমার গাড়ি হাঁকিয়ে চলে যেতেন আরও দূরে! এমনই ছিল তাঁর গাড়ির প্রতি ভালবাসা।
এন্টালি সিআইটি রোডের কাছে এক পাঞ্জাবি গাড়ির ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লেটেস্ট সব গাড়ির মডেলের খোঁজ নিতেন উত্তমকুমার। ছুটির দিন একবারের জন্য হলেও তাঁর গ্যারেজে যেতেন। ন্যাপা নামে তাঁর একজন বিশ্বস্ত ড্রাইভার ছিলেন। অধিকাংশ দিন শুটিং থেকে ফেরার পথে ন্যাপাকে পাশের সিটে বসিয়ে নিজেই থাকতেন স্টিয়ারিংয়ে।
নিজের কালেকশনে একাধিক গাড়ি থাকলেও উত্তমকুমারের প্রিয় ছিল নিজের ডজ কিংসওয়ে গাড়িটি। এ ছাড়া তাঁর আইকনিক সাদা রঙের অ্যাম্বাসেডর তো ছিলই। মন খারাপ হোক, ভালো হোক, কোনো উদ্বেগের মধ্যে থাকুন কিংবা আসুক কোনো খুশির খবর— সময় পেলেই উত্তমকুমার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন মুহূর্তটি উদ্যাপন করতে। শুটিংয়ের অবসরে গাড়ি চালিয়ে পছন্দের খাবারের দোকানে চলে যেতেন। আবার এ রকমও দেখা যেত, গভীর রাতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি।