এ সপ্তাহের সিনেমা
পর্দায় সুপারম্যান সফল হলেও বিপরীত চিত্র সুপারগার্লের বেলায়। ৪২ বছর আগে ১৯৮৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল প্রথম ‘সুপারগার্ল’। সিনেমাটি ‘সুপারম্যান’ সিরিজের স্পিন-অফ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। মুক্তির পর এটি বক্স অফিসে সফল হয়নি এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। সেই ব্যর্থতা নারী সুপারহিরোদের সিনেমার ভবিষ্যৎ একরকম অন্ধকারেই ঠেলে দিয়েছিল।
অবশেষে চার দশকের বেশি সময় পর পর্দায় আসছে নতুন ‘সুপারগার্ল’। আজ আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ডিসি ইউনিভার্সের এই সিনেমা। একই দিনে বাংলাদেশের সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাচ্ছে দর্শকেরা।
ক্রেইগ গিলেস্পির পরিচালনায় পর্দায় সুপারগার্ল হয়েছেন মিলি অ্যালকক। ২০২৫ সালে জেমস গানের ‘সুপারম্যান’ সিনেমায় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল সুপারগার্লের। কয়েক সেকেন্ডের জন্য দেখা মিলেছিল তার। এবার পুরো গল্প নিয়ে সুপারগার্ল হিসেবে পর্দায় আসছেন মিলি অ্যালকক। ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ সিরিজে কিশোরী টারগারিয়েন চরিত্রে অভিনয় করে যিনি আগেই নজর কেড়েছেন।
এ সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে কারা জোর-এল (সুপারগার্ল)। পৃথিবীতে বড় হওয়া সুপারম্যানের মতো সুখী শৈশব তার ছিল না। সে ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্রিপ্টনের একটি অংশে বড় হয়েছে এবং নিজের চারপাশের মানুষের মৃত্যু দেখেছে। ফলে সে অনেক বেশি কঠোর, ক্ষতবিক্ষত ও বাস্তববাদী।
গল্পে কারা জোর তার কুকুর ক্রিপ্টোকে নিয়ে মহাকাশে ভ্রমণ করতে গিয়ে রুথি নামের এক কিশোরীর সঙ্গে পরিচিত হয়। রুথির পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক দস্যু নেতা। এরপর সুপারগার্ল ও রুথি প্রতিশোধ এবং ন্যায়বিচারের সন্ধানে এক বিপজ্জনক অভিযানে বের হয়।
ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে প্রচলিত সুপারগার্ল গল্পের চেয়ে বেশি পরিণত, অন্ধকার ও আবেগঘন বলে মনে করছেন। এই সিনেমা শুধু সুপারগার্লের একক যাত্রা নয়, বরং ডিসি স্টুডিওর নতুন সিনেমাটিক ইউনিভার্স গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নতুন ডিসি ইউনিভার্সে সুপারম্যানের পাশাপাশি সুপারগার্লকেও কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার অংশ এটি।
সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন ম্যাথিয়াস শোনার্টস, ইভ রিডলি, ডেভিড ক্রামহোল্টজ, এমিলি বিচাম, ডেভিড কোরেনসওয়েট, জেসন মোমোয়া প্রমুখ।