১৯৫৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমায় প্রথমবার পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করেন উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন। উত্তম কিংবা সুচিত্রা কেউই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেননি। তবে দুজনের অভিনয় নজর কাড়ে সবার। ১৯৫৪-তে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সিনেমায় জনপ্রিয়তা পায় উত্তম-সুচিত্রা জুটি। সময়ের পরিক্রমায় তাঁরা হয়ে ওঠেন কালজয়ী জুটি।
‘পথে হল দেরী’, ‘শাপমোচন’, ‘সাগরিকা’, ‘হারানো সুর’, ‘সবার উপরে’, ‘চাওয়া-পাওয়া’, ‘দেয়া নেয়া’, ‘দীপ জ্বেলে যাই’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘উপহার’সহ ৩০টি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন উত্তম-সুচিত্রা। সেই সময় গুঞ্জনও রটেছিল, শুধু পর্দায় নয়, সুচিত্রা সত্যিই মন দিয়েছিলেন উত্তমকে। তবে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের আগে সেই প্রেম গোপনে রেখে অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন।
উত্তম-সুচিত্রার প্রেম নিয়ে নানা গুঞ্জনের সত্যতা পাওয়া না গেলেও তাঁদের বন্ধুত্বের কথা সবাই জানত। উত্তমকে তুই বলে ডাকতেন সুচিত্রা। দুজনের মধ্য়ে মাঝেমধ্যেই নাকি চলত রাগ-অভিমান। উত্তম ছিলেন রসিক মেজাজের আর সুচিত্রা শুটিং ফ্লোরে গুরুগম্ভীর, তাই অনেক সময়ই উত্তম ছোটখাটো রসিকতা করলে, সুচিত্রার মুখ ভারী হয়ে যেত। শুটিং শেষে মেকআপ রুমে সুচিত্রার রাগ ভাঙাতেন উত্তম।
প্রথম থেকে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিলেও উত্তম-সুচিত্রা জুটির শেষ অধ্যায়টি লেখা হয়েছিল ফ্লপ দিয়ে। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয় বান্ধবী’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। টানটান চিত্রনাট্য, চিরসবুজ গান আর তাঁদের চিরাচরিত রসায়নের ম্যাজিক—কোনো কিছুই সেই সিনেমাকে বাঁচাতে পারেনি।