চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মুহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যা মামলায় ঢাকাই সিনেমার খল অভিনেতা মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয় তাঁকে। সেখানে তাঁকে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে আদালতের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্টেও তাঁর নাম ছিল।
ওসি আরও জানান, আজ সকালে সৌদি আরব যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে ডনকে আটক করা হয়। পরে সিআইডির কর্মকর্তারা এসে তাঁকে নিয়ে যান।
সিআইডির ঢাকা মহানগরের (পশ্চিম) বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীর বলেন, ডনকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ আসামির তালিকায় অভিনেতা ডনের নাম রয়েছে। গত বছর আদালত আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
গোলাম বেনজীর বলেন, ওই সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি রিকুইজিশন পাঠিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
গোলাম বেনজীর বলেন, আজ সকাল ৬টার দিকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ডন বিমানবন্দরে যান। পরে ইমিগ্রেশনে তাঁকে আটক করা হয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে গত বছর ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলার এজাহারে ১১ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় কয়েকজনকে।
যাদের আসামি করা হয়েছে তাঁরা হলেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রিজভি আহমেদ ফারহাদ।
এর আগে, গত বছর ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রমনা থানার ওসিকে সালমান শাহর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
গত ২৩ জুলাই ষষ্ঠবারের মতো পিছিয়ে আগামী ৩০ আগস্ট সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়।