বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে বয়স একটি নিছক সংখ্যা মাত্র। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘প্যায়ারেলাল’ সিনেমা দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু। একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ৭৬ বছরে এসেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সমালোচক ও দর্শক—সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি মনে করেন, এখনো অনেক কিছু দেওয়ার বাকি। এখনই অভিনয়কে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা তাঁর নেই। তাই আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করেন না তিনি।
সম্প্রতি সিনেমা হলে ৫০ দিন পূর্ণ করেছে ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা। এ উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘সম্প্রতি বেশ কয়েকটি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি। এই পুরস্কারের অর্থ হলো, আপনার কাজ এবার শেষ। কিন্তু বিদায় নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার এখনই নেই। তাই আমি পুরস্কারগুলো গ্রহণ করছি না। আমি মনে করি না যে আমার কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখনো ফুরিয়ে যাইনি আমি।’
ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা সিনেমা নিয়ে তিনি বলেন, ‘দারুণ এক গল্পের সিনেমাটি বানিয়েছেন ইমতিয়াজ আলী। সিনেমাটির অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান এবং অত্যন্ত গর্বিত মনে করছি। আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’
এই সিনেমায় নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনয় করেছেন ঈশ্বর সিং নামের ৯৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির চরিত্রে। যার মনের কোণে এখনো রয়ে গেছে অবিভক্ত ভারতের স্মৃতি। স্ট্রোকের পর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ বারবার ফিরতে চান সারগোধায়—যে শহরটি দেশ ভাগের পর পাকিস্তানের অংশ হয়ে গেছে। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য তাঁর এই আকাঙ্ক্ষার অর্থ বুঝতে না পারলেও ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসা তাঁর নাতি নির্ভয় ধীরে ধীরে দাদুর অতীতের দরজা খুলতে শুরু করে।