ঢাকা : বিচ্ছেদের পরেও একসঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা দিলেন রণবীর শোরে ও কঙ্কনা সেন শর্মা। তবে সেটা কাজের জন্য, একসঙ্গে বহুদিন তাঁদের কাজ নেই। ছেলে হারুন ১০ বছরে পা দিয়েছে। ছেলের জন্য জীবনযাপনে পরিবর্তনও এনেছেন তাঁরা। আক্ষরিক অর্থেই নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমিয়ে ফেলেছেন দুই তারকা। পারস্পরিক মনোমালিন্য ছেলেকে যেন প্রভাবিত না করে, সেই কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত। বলিউড অভিনেতা রণবীর নিজেই সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
বিয়ের পাঁচ বছর পর ২০১৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় এই অভিনেতা-অভিনেত্রীর। রণবীরের কথায় জানা যায়, বিচ্ছেদের পরেও সন্তান পালনের ক্ষেত্রে কেউই কড়া নিয়ম মেনে চলেননি। দুজনই চেষ্টা করেছেন স্বাভাবিকভাবে সন্তানকে বড় করে তোলার। যেমন একজনের সঙ্গে থাকাকালীন অন্যজনের সঙ্গে তাঁদের ছেলে দেখা করতে পারবে না––এমন কোনো নিয়ম হারুনের ওপর চাপিয়ে দেননি। তাঁরা বুঝেছিলেন এতে ছেলের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। ফলে বিচ্ছেদের পরেও সাবেক দম্পতি তাঁদের ছেলের জন্য স্বাভাবিক সম্পর্ক রেখেছেন।
সাক্ষাৎকারে রণবীর বলেন, ‘এক ছাদের তলায় হয়তো থাকতে পারব না আমরা। তার জন্য এক এলাকায় থাকার চেষ্টা করেছি। যাতে ছেলে যখন ইচ্ছে দুজনের সঙ্গে দেখা করতে পারে। ওর হাঁটার দূরত্বে আমাদের বসবাস। আমাদের চিন্তাধারা সবকিছুই এখন আলাদা। কিন্তু ছেলের ব্যাপারে আমরা সব সময়ই এক থাকব বলে আশা করি।’ সপ্তাহ ঘুরে বাবা-মায়ের কাছে থাকে ছেলে হারুন।
বলিউডে একসময় আলোচিত প্রেমিক জুটি ছিলেন কঙ্কনা-রণবীর। ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু বোঝাপড়াটা বেশি দিন থাকেনি। ২০১৫ সালেই পৃথক হয়ে যায় এই দম্পতি। এখন পর্যন্ত কেউ কাউকে কোনোভাবে দোষারোপও করেননি এই বিচ্ছেদের জন্য। বলিউডে এ পর্যন্ত ঘটা বিচ্ছেদের মধ্যে এটি একটা বড় ঘটনা। বিচ্ছেদের ঘোষণার পরও কাউনসেলিং চলেছে অনেকটা সময় ধরে। কিন্তু তাতে শীতল সম্পর্ক আর উষ্ণ হয়নি। তাই গত বছর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয় তাঁদের। পৃথক থাকার পাঁচ বছর পর তাঁরা বিচ্ছেদকে চূড়ান্ত করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এ জন্য যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ঘোষণা আসেনি। অনেকে বলছেন, তাঁরা কি আবার কাছে আসছেন?
রণবীর ও কঙ্কনা একসঙ্গে ‘ট্রাফিক সিগন্যাল’, ‘মিক্সড ডাবলস’ ও ‘আজা নাচলে’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আর অভিনয়ের মধ্যেই তাঁরা প্রেমে পড়েছিলেন।