প্রাচ্যনাটের প্রযোজনা
কিংবদন্তি ব্রিটিশ রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’ শুধু একটি গান নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক। ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ওয়াল’ অ্যালবামের এই গানে উঠে এসেছে শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে শিশুদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ধ্বংস করে তাদের এক ছাঁচে ঢালা ইটের মতো গড়ে তোলে, সেই কথা। একই বার্তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়েছেন তাঁর ‘অচলায়তন’ নাটকে।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে অচলায়তন নাটকটি মঞ্চায়ন করছে নাট্যদল প্রাচ্যনাট। নির্দেশনা দিচ্ছেন আজাদ আবুল কালাম। ৩০ ও ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় রয়েছে অচলায়তনের দুটি প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে পিঙ্ক ফ্লয়েডের ‘অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’ গানটি যুক্ত করেছেন নির্দেশক। নাটকের শেষ দিকে অভিনেতাদের কণ্ঠে শোনা যাবে ‘উই ডোন্ট নিড নো এডুকেশন, উই ডোন্ট নিড নো থট কন্ট্রোল...’।
এই ব্যতিক্রমী ভাবনার কারণ জানিয়ে অচলায়তন নাটকের নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘এই সময়ের সঙ্গে পিঙ্ক ফ্লয়েডের গানটির সামঞ্জস্য আছে বলেই গানের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের অচলায়তন আমরা যেভাবে করেছি, তার সঙ্গে এই গান অনেক প্রাসঙ্গিক। নাটকের শেষ দিকে লাইভ অ্যাক্টরদের কণ্ঠে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। অচলায়তনে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ছেলেবেলার বিদ্যাপীঠের কথা। পিঙ্ক ফ্লয়েডের এই গানেও বিষয়টি উঠে এসেছে, তাই গানটি নাটকে যুক্ত করা।’
শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির এক আনন্দময় উৎসব রবীন্দ্রনাথের অচলায়তন। নাটকটির গল্পে দেখা যায়, অচলায়তন বিদ্যায়তনের বিদ্যার্থীরা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবতীয় নিয়ম ও অনুশাসন মেনে চলে। এরই মধ্যে প্রেক্ষাপটে উপস্থিত হয় গুরু বা দাদাঠাকুর। বাইরের বাস্তব জগৎ ও সেই জগতের মানুষের সঙ্গে অচলায়তনের বিদ্যার্থীদের পরিচয় ঘটে অনেকটাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পুরোনো চিন্তার প্রাচীন দেয়াল ভেঙে পড়ে, শুরু হয় নতুনের স্পন্দন।
অচলায়তন নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন সানজিদা প্রীতি, শাহানা রহমান সুমি, শাহেদ আলী, ফরহাদ হামিদ, জাহাঙ্গীর আলম, প্রদুত কুমার ঘোষ, চেতনা রহমান ভাষা প্রমুখ। মঞ্চ ও আলোয় সাইফুল ইসলাম, সংগীতে নীল কামরুল, কোরিওগ্রাফিতে স্নাতা শাহরিন ও পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন আফসান আনোয়ার।