প্রতিবছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ঘোষণা করা হয় পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম। সাহিত্য, শিল্প, খেলা, চিকিৎসা, ব্যবসা, সমাজসেবাসহ নানা ক্ষেত্রের মানুষকে সম্মানিত করে দেশটির সরকার। এ বছর পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন ১৩১ জন। তাঁদের মধ্যে বাঙালি রয়েছেন ১১ জন। সেই তালিকায় আছে টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অবদানের জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ।
৪০ বছরের বেশি সময় ধরে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন প্রসেনজিৎ। এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে আপ্লুত অভিনেতা। পদ্মশ্রী পাওয়ার খবর পেয়ে অভিনেতা বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার একার নয়। ৪০ বছর ধরে যাঁরা আমায় নিয়ে কাজ করেছেন, এই সম্মানের ভাগীদার সবাই। তাঁরা না থাকলে আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হতে পারতাম না। সবচেয়ে আনন্দ হচ্ছে, আমি ৯৮ শতাংশ বাংলা সিনেমা করেছি। বাংলা ভাষায় সিনেমা করে এই সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হয়েছে আমায়। কিন্তু যে মানুষটাকে মিস করছি, সেটা আমার মা। মা ছাড়া আমি প্রসেনজিৎ হতে পারতাম না।’
বলিউড থেকে এবার তিনজন ভূষিত হচ্ছেন পদ্ম সম্মাননায়। মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন ধর্মেন্দ্র। গায়িকা অলকা ইয়াগনিক পাচ্ছেন পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অভিনেতা আর মাধবন। গত বছরের ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হয়েছেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর এই মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পাওয়ায় খুশি দেওল পরিবার। তবে ধর্মেন্দ্রপত্নী হেমা মালিনী যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছেন না। তাঁর গলায় আক্ষেপের সুর। তিনি বলেন, এই সম্মান তাঁর আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল।
চার দশকের বেশি সময় ধরে অগণিত কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন অলকা ইয়াগনিক। পদ্মভূষণপ্রাপ্তির খবর পাওয়ার পর তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আর আমার শ্রোতাদের জন্য হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা।’
অন্যদিকে দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রি থেকে এ বছর পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন মালয়ালম অভিনেতা মামুট্টি। পদ্মভূষণ পাচ্ছেন তিনি। এর আগে ১৯৯৮ সালে পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন মামুট্টি।