মঞ্চে আসছে নাট্যদল থিয়েটার চারণিকের নতুন নাটক ‘কালযাত্রা: একটি নিষিদ্ধ জানাজার গল্প’। এটি দলের ষষ্ঠ প্রযোজনা। ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় হবে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর একই স্থান ও সময়ে দেখা যাবে দ্বিতীয় প্রদর্শনী।
মৃত্যুর পর এক যাত্রাশিল্পীর শেষ ইচ্ছা নিয়ে কালযাত্রা নাটকের গল্প। নাটকটি লিখেছেন মাহফুজা হিলালী, নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। একক অভিনয় করছেন সাফিয়া খন্দকার রেখা।
গল্পে দেখা যাবে, কুমকুমের মা প্রিন্সেস মহিমা ছিল খ্যাতিমান যাত্রাশিল্পী। মঞ্চে সে কখনো সীতা, কখনো দ্রৌপদী, কখনো বেহুলা। চরিত্র বদলেছে, পালা বদলেছে, সময় বদলেছে; বদলায়নি শুধু তার জীবনের কিছু অপমান, ক্ষত ও না পাওয়া। মৃত্যুর পর মেয়ে কুমকুমের সামনে থাকে মায়ের একটিমাত্র শেষ ইচ্ছা—জানাজা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়েই একের পর এক দরজা তার সামনে বন্ধ হতে থাকে।
কোথাও ধর্মের বিধান, কোথাও সমাজের নিষেধ, কোথাও ক্ষমতার অদৃশ্য হিসাব। মায়ের শেষ ইচ্ছার সামনে দাঁড়িয়ে কুমকুম বুঝতে পারে, মানুষকে ঘিরে থাকা সবচেয়ে শক্ত দেয়াল ইট-পাথরের নয়; তা তৈরি হয় পরিচয়, ভয় আর নিষেধ দিয়ে। সেই দেয়ালের ভেতরেই বারবার ফিরে আসে মহিমার ফেলে যাওয়া মঞ্চ। স্মৃতির পর্দা উঠতে থাকে, অতীতের চরিত্ররা যেন বর্তমানে এসে দাঁড়ায়। কখনো দ্রৌপদীর প্রশ্ন, কখনো বেহুলার দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কখনো সীতার অগ্নিপরীক্ষা। মঞ্চের অভিনয় আর জীবনের বাস্তবতা একাকার হয়ে যায়।
নাট্যকার মাহফুজা হিলালী বলেন, ‘পথপরিক্রমা শেষে শিল্পীরাই সবচেয়ে অবহেলিত, প্রশ্নবিদ্ধ ও নির্যাতিত। তাঁদের মধ্যে নারী শিল্পীরা আরও বেশি নিষ্পেষিত। যদিও শিল্পীদের নারী-পুরুষ ভেদাভেদ থাকার কথা নয়। তবু সমাজ বাস্তবতায় নারী যেহেতু অবহেলিত, সেহেতু নারীশিল্পীও এর ব্যতিক্রম হয়ে উঠতে পারেননি। সেই কথাগুলোই এ নাটকে বলার চেষ্টা করেছি।’
নিদের্শক শামীম সাগর বলেন, ‘কালযাত্রা কেবল একটি নাটক হয়ে থাকেনি; এটি আমাদের সময়, সমাজ এবং নিজেদের বিবেকের সঙ্গে একধরনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র কুমকুমের চোখ দিয়ে আমরা দেখি একজন যাত্রাশিল্পীর অবহেলা, অপমান, অনিশ্চয়তা ও পরিচয়ের সংকট। আমরা কোনো ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইনি; প্রশ্ন করতে চেয়েছি ধর্মের নামে মানুষের তৈরি ক্ষমতা, সংকীর্ণতা, ভয় ও নিষ্ঠুরতাকে।’