হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ব্যবসায় অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি

খালেদা আক্তার

আমি খালেদা আক্তার। গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছি। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটে ৩৮৩তম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ও ‘ডি’ ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে অধ্যয়নরত আছি।

প্রস্তুতির শুরু যেভাবে

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি মূলত কলেজ থেকে শুরু হয়। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছি। পাশাপাশি এইচএসসির পাঠ্যবইয়ের বেসিক বিষয়গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ছিল। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এটি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।

বড় চ্যালেঞ্জ

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা। এ ক্ষেত্রে আমার মা-বাবা, বড় বোন ও শিক্ষকেরা আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করেছেন।

সাফল্যের পেছনের কৌশল

আমার সাফল্যের পেছনে মা-বাবা, ভাই-বোন এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা, প্রশ্নব্যাংক সমাধান এবং প্রচুর এমসিকিউ অনুশীলন করেছি। সবকিছু না পড়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক বাছাই করে পড়াও প্রস্তুতিতে কাজে দিয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ

বাংলা: পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়তে হবে। ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির পুরোনো বই পড়লে পরীক্ষা ভালো করা সম্ভব।

ইংরেজি: পাঠ্যবইয়ের ভোকাবুলারি ও অনুচ্ছেদগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি যেকোনো ভালো ভর্তি কোচিংয়ের লেকচার শিট পড়া যেতে পারে।

গণিত: অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে। বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত পড়তে হবে।

পড়াশোনার রুটিন

প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করতাম। পাশাপাশি নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতাম এবং প্রশ্নব্যাংক সমাধান করতাম। একটি দিনের পড়া শেষ করতে যতক্ষণ সময় লাগত, ততক্ষণ পড়তাম।

পড়াশোনার পাঁচ কৌশল

১. বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক সমাধান করে প্রশ্নের ধরন ও প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারণা নিন।

২. সবকিছু না পড়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক বাছাই করে পড়ুন। প্রশ্নব্যাংক সমাধান করলে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যায়।

৩. প্রতিদিন মডেল টেস্ট দিন। ভুলগুলো চিহ্নিত করে কেন ভুল হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট টপিক আবার পড়ুন।

৪. নিয়মিত রিভিশন দিন। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে রিভিশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

৫. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে ফ্ল্যাশকার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করুন। বেসিক বিষয়গুলো পরিষ্কার রাখুন। নিয়মিত প্রশ্নব্যাংক সমাধান ও মডেল টেস্ট দিন। মডেল টেস্টে কোথায় ভুল হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট টপিক পড়ুন। নিয়মিত রিভিশন দিন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

পরীক্ষার হলে কৌশল

পরীক্ষার হলে নার্ভাস হওয়া যাবে না। ওএমআর শিট সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। সম্ভব হলে শুরুতে পুরো প্রশ্নপত্র একবার দেখে নিতে হবে। যেগুলো ভালোভাবে পারেন, সেগুলোর উত্তর আগে দিতে পারেন। কোনো প্রশ্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে উত্তর না দেওয়াই ভালো, কারণ নেগেটিভ মার্কিং থাকতে পারে। একই সঙ্গে সময়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

বিশেষ নোট

প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশ্নব্যাংক সমাধান ও রিভিশন দিতে হবে। পর্যাপ্ত খাবার ও ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থ থাকতে হবে এবং সময়ের অপচয় এড়িয়ে চলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।

খালেদা আক্তার

ব্যবসায় অনুষদ

মেধাতালিকা: দ্বিতীয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ২০২৫-২৬

গ্রন্থনা: মালিহা মেহনাজ