মতিহারের সবুজে ঘেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ‘বি’ ইউনিটে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন। এই ইউনিটে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য শুধু পড়াশোনা নয়, প্রয়োজন সঠিক কৌশল ও সময়ের যথাযথ ব্যবহার।
ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং মার্কেটিং/ফিন্যান্স—এই পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়। মোট ৮০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের বিপরীতে নম্বর ১০০। জিপিএর ওপর কোনো নম্বর নেই। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা হয়। পাস নম্বর ৪০। প্রথমেই মনে হতে পারে, প্রতিদিন পাঁচটি বিষয় পড়া কীভাবে সম্ভব? পরিকল্পনা করে সময় ভাগ করলে কাজটি মোটেও কঠিন নয়; বরং প্রতিদিন প্রতিটি বিষয়ে কিছুটা সময় দিলে প্রস্তুতিতে ভারসাম্য থাকে।
ধরা যাক, সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পড়াশোনার সময়ের মধ্যে খাওয়া ও অন্য কাজের জন্য তিন ঘণ্টা ব্যয় হলো। তাহলে প্রায় ১২ ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য রাখা সম্ভব। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়টি কঠিন বা তুলনামূলক দুর্বল বিষয় পড়ার জন্য রাখা যেতে পারে। সকালে মন সতেজ থাকে। তাই জটিল বিষয় বুঝে পড়তে সুবিধা হয়। এ সময় হিসাববিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি কিংবা ফিন্যান্স পড়া যেতে পারে। তবে কোনো একটি দুর্বল বিষয় এক দিনে পুরোপুরি আয়ত্ত করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করা ঠিক নয়। নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়লে কঠিন বিষয়ও ধীরে ধীরে সহজ হয়ে আসে।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা ইংরেজির ভোকাবুলারি ও অন্য মুখস্থনির্ভর বিষয় পড়া যেতে পারে। প্রতিদিন ভোকাবুলারি চর্চা করলে পরীক্ষার আগে আলাদা করে অনেক শব্দ মুখস্থ করার চাপ থাকে না।
বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা বা ৫টা পর্যন্ত সময় থিওরিনির্ভর বিষয় পড়ার জন্য উপযোগী। এ সময় ব্যবস্থাপনা, ইংরেজি প্রথম পত্র ও মার্কেটিং পড়া যেতে পারে। থিওরি পড়ার ক্ষেত্রে শুধু গুরুত্বপূর্ণ অংশ দেখে শেষ করলে হবে না, পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে পড়তে হবে। কারণ, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন বইয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতে পারে।
সন্ধ্যার পর দিনের বাকি বিষয়টি শেষ করে প্রশ্নব্যাংক সমাধান করা যেতে পারে। সারা দিন পড়া বিষয়গুলোর মধ্যে কোন অধ্যায় বা টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, তা এতে সহজে বোঝা যায়। প্রশ্নব্যাংক সমাধানের মাধ্যমে একই সঙ্গে অনুশীলন ও রিভিশন হয়ে যায়। কোনো প্রশ্নে আটকে গেলে তখনই বই খুলে বিষয়টি দেখে নেওয়া উচিত। এতে ভুলের জায়গাগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। দিনের শেষ দুই ঘণ্টা রাখা যেতে পারে রিভিশনের জন্য। সারা দিনে যা পড়েছেন, রাতে একবার সেগুলো চোখ বুলিয়ে নিন। এতে কোন বিষয় মনে আছে আর কোনটি আবার পড়া দরকার, তা বোঝা যাবে।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীদের টেক্সটবুকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ব্যাখ্যাসহ পছন্দের প্রকাশনীর সহায়ক বই ব্যবহার করা যেতে পারে। রাবির ভর্তি পরীক্ষায় আগের বছরের প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। তাই নিয়মিত প্রশ্নব্যাংক সমাধান করা দরকার। এতে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে এবং নিজের প্রস্তুতির দুর্বল জায়গাগুলোও ধরা পড়বে।
সময় ব্যবস্থাপনা এবং পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা শুরুতে কঠিন মনে হতে পারে। তবে নিয়মিত অনুশীলন করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। একটি বিষয় নিয়ে সারা দিন পড়ে বিরক্ত হওয়ার বদলে প্রতিদিন পাঁচটি বিষয়েই কিছুটা সময় দিলে পড়াশোনায় বৈচিত্র্য থাকবে। এতে প্রস্তুতিও এগোবে, একঘেয়েমিও কমবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তাই দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে পরিকল্পিতভাবে পড়া বেশি কার্যকর। টেক্সটবুক, সহায়ক বই ও প্রশ্নব্যাংককে সমন্বয় করে নিয়মিত অনুশীলন করলে ‘বি’ ইউনিটের প্রস্তুতি অনেকটাই গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব।