ইচ্ছা করলেই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কথা বলা যায় মুঠোফোনে কিংবা খুদে বার্তায়। তবু সব কথা কি আর বলা হয়ে ওঠে? কিছু কথা থেকে যায় মনের গহিনে, কিছু অনুভূতি মুখে এসে থেমে যায়। স্মৃতি, মান-অভিমান, ভালোবাসা এবং না-বলা কথাগুলো তাই কখনো কখনো খুঁজে নেয় চিঠির কাগজ। অক্ষরে অক্ষরে চিঠিতে জমে থাকে মনের কথা, একান্ত অনুভূতি। প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব চিঠি দিবস বা আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস পালিত হয়। এ দিবসকে কেন্দ্র করে প্রিয় মানুষদের কাছে মনের কথা লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া চার তরুণ-তরুণী। চিঠিগুলো গ্রন্থনা করেছেন মালিহা মেহনাজ।
অদ্রিতা পাল
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
কেমন আছিস? এই প্রশ্নের উত্তর যদিও আমার একদমই জানা! হয়তো নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তুই এখনো মেডিকেলের পড়াশোনায় ডুবে আছিস। তোর ঘরটা প্রায়ই খালি লাগে। মন চাইলেই তোর সঙ্গে আর ছাদে খেলতে পারি না, গল্প করতে পারি না, একসঙ্গে খেতেও পারি না। একমুহূর্তে, চোখের পলকে কীভাবে যেন বড় হয়ে গেলি। কিন্তু আমি যে সেই ছোট্ট ‘টুনি’কেই চিনি। তোর এই মাসে জন্মদিন। তাই এই চিঠি দিবসে চিঠির মাধ্যমে তোকে একটা বার্তা দিতে চাই—‘শুভ জন্মদিন, টুনি! পৃথিবীর সব সুখ ও সমৃদ্ধি তোর জীবনে আসুক। দিদি তোকে অনেক ভালোবাসে।’
ইতি
তোর বোন
অদ্রি
মো. আবির হোসেন
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
কেমন আছ তুমি? আমি জানি, এর উত্তর তুমি ভালোভাবে দেবে না। কোনোরকম ‘ভালো আছি’ বলেই এড়িয়ে যাবে। তোমার এই স্বভাবটা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি। নিজের কষ্ট লুকিয়ে রাখা তোমার এক অদ্ভুত শিল্প। বাবা, তুমি সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় বসে জীবনের প্রথম পাঠ শিখেছিলাম। ছোটবেলা থেকে তুমি আমাকে হাত ধরে পথচলা শিখিয়েছ, ভুল করলে সাহস দিয়েছ, স্বপ্ন বুনতে শিখিয়েছ। আজ আমি যে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখি, তার পেছনে তোমার অবদান সবচেয়ে বেশি। শুধু এইটুকুই বলি, তুমি আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষক। তোমার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা আর অগাধ ভালোবাসা। হয়তো সামনে কখনো বলতে পারব না, তাই চিঠিতে বললাম— তোমায় অনেক ভালোবাসি।
ইতি
তোমার সন্তান
তনু সেন
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব দিল্লি
তোমাকে সেভাবে কখনোই ঘটা করে চিঠি লেখা হয়নি। দেশে তোমার দিন কেমন যাচ্ছে, সেটাও জানাচ্ছ না। একা তো ঠিকই, ফেলে চলে গেলে! বাগেরহাটের ভেটকি মাছ অনেক মিস করি আমি, খাওয়ালেও না। বেশ আলাপ হলো, এখন আসল কথায় আসি। অনেক কঠিন সময় যাচ্ছে। আশা করি, নিজেকে ঠিকঠাক গুছিয়ে নিতে পারবে। মুখটা আবার বাংলার পাঁচ বানিয়ে রেখো না যেন। জীবনে অনেক বড় হও, ঠিক যেমনটি তুমি চাও। তোমাকে ছাড়া দিল্লি-জীবন পার করতে একটু কষ্ট হবে ঠিকই, কিন্তু পারব। ভালো থেকো, তোমার আশপাশের মানুষদের ভালো রেখো। সব সময় তোমার সুস্থতা কামনা করি।
ইতি
তোমার বন্ধু
তনু
অরিত্র রোদ্দুর ধর
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বলো তো, এই ক্যারিয়ারিস্টিক ও করপোরেট দুনিয়ায় তুমি কেন শুধু ‘মা’ হয়ে রয়ে গেলে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও খ্যাতনামা শিক্ষকদের প্রিয় ছাত্রী ছিল যে মেয়েটা, তার তো বড় কোনো মিডিয়া হাউস কিংবা উন্নয়ন সংস্থার বড় কর্মকর্তা হওয়ার কথা ছিল। সেই তুমি আমাদের দুই ভাইয়ের পড়াশোনা এবং বেড়ে ওঠার পেছনেই ঢেলে দিলে তোমার স্বপ্ন, পরিশ্রম। কেউ জিজ্ঞেস করলে অবলীলায় বলেছ, ‘আমার ছেলেদের সাফল্যই আমার ক্যারিয়ার।’ এখনো তোমার গর্ব হয়ে উঠতে পারিনি, মা। কিন্তু যখনই কোনো ট্রফি জিতেছি, পুরস্কার পেয়েছি, প্রতিবারই মনে হয়েছে, আমি তোমার জন্যই জিতেছি। আর আজীবন তোমার জন্যই জিততে চাই। তোমার সব স্বপ্ন পূরণ করে ক্যারিয়ার গ্রাফটাকে আকাশচুম্বী করাই এখন আমার স্বপ্ন।
ইতি
তোমার আদরের গুড্ডু