কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটিগুলোর নগর পরিবহন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিকট ভবিষ্যতে এআই দিশারি হয়ে উঠবে বলে মনে করেন চীনের থোংচি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ট্রান্সপোর্টেশনের সহযোগী অধ্যাপক লি চিয়ান।
সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক সেমিনারে বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগান্তকারী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ ভাষা মডেলের ব্যবহার’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক কনফারেন্স হলেও বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এহসান আহমেদ আশরাফি। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে বক্তব্য দেন অধ্যাপক লি চিয়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল হক সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সেমিনারে অধ্যাপক লি চিয়ান নগর পরিবহনে এআইয়ের প্রয়োগকে চারটি প্রধান স্তরে ভাগ করেন। এগুলো হলো—ডেটা এনহ্যান্সমেন্ট, নলেজ গ্রাফভিত্তিক নলেজ এনহ্যান্সমেন্ট, অ্যালগরিদমিক মডেল এনহ্যান্সমেন্ট এবং মাল্টি-এজেন্ট সহযোগিতার মাধ্যমে টাস্ক এনহ্যান্সমেন্ট।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে সাধারণ এআই মডেলকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য বিশেষায়িত পেশাদার মডেলে রূপান্তর করা যায়। এ সময় চীনের শাংহাইয়ে পরিচালিত বেশ কিছু বাস্তব গবেষণা ও এর সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নাগরিকদের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দ্রুত বাস রুট সংস্কার, ‘শাংহাই পাবলিক ট্রানজিট নলেজ গ্রাফ’ ব্যবহার করে নীতিমালা-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান এবং ডোর-টু-ডোর স্মার্ট রুট পরিকল্পনা। আন্তর্জাতিক শুল্ক ও এইচএস কোড শ্রেণীকরণেও এআই ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া স্বল্প-কার্বন যাতায়াত পরিকল্পনা এবং বাস রুট পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এআইয়ের মাধ্যমে সিমুলেশনের বিষয়েও আলোচনা করেন অধ্যাপক লি। তিনি বলেন, শুধু তাত্ত্বিক মডেল তৈরি করলেই হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগে একটি শক্তিশালী ওপেন-সোর্স স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।
সূত্র: সিএমজি