‘মানুষ হিসেবে আমরা তখনই সত্যিকার অর্থে সফল, যখন অন্যের দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে পারি।’ কথাটি শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ রাখেননি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একদল শিক্ষার্থী। তাঁরা দেশের দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মানবিক মানুষ হয়ে।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রায় প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অতিবৃষ্টিতে দেশের কোনো না কোনো অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নদী দখল-ভরাটের মতো নানা কারণে সেই ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাজারো পরিবার হয়ে পড়ে পানিবন্দী। অনেকের ঘরবাড়ি ডুবে যায়। দেখা দেয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট। অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নেয় উঁচু জায়গায় কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে।
এমন সময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শুরু হয় ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসন, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় অল্প সময়ে সংগ্রহ করা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
সংগৃহীত অর্থে প্রস্তুত করা হয় জরুরি ত্রাণসামগ্রী। শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন, আটা, তেল, আলু, পেঁয়াজ, চিড়া, চিনি, বিস্কুট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে দুটি স্বেচ্ছাসেবক দল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা হয়। পরে তারা সাতকানিয়ার রামপুর, ভূতপাড়া ও তেমুহনি এবং বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা, বাঁশখালা ও ছাপাছড়ি এলাকায় পৌঁছে দেয় ত্রাণ।
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শেখ আবরার নাসিফ বলেন, ‘অনেক মানুষ ঘর হারিয়ে ভাঙা ঘরে কিংবা অন্যের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে। ছোট শিশুদের অসহায় মুখ, বৃদ্ধদের কষ্ট আর বুকসমান পানিতে আটকে থাকা গবাদিপশুর দৃশ্য আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’