হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

জাবিতে তালা দিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে প্রতিবাদ

জাবি প্রতিনিধি 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিতে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চার দফা দাবি জানিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় হলের সংস্কারে প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে অভিনব উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

দাবিগুলো হলো—হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার এবং শৌচাগারের পাশে ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন; হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-সড়ক নির্মাণ, হলের মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা এবং হলের চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।

শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হল ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণ কাজের জন্য আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে যায়। লাইব্রেরির কাজ শেষে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তাঁদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলটি পুরোনো হওয়ায় বৃষ্টিতে চারতলার কক্ষগুলো থেকে পানি চুঁইয়ে পরে। এ ছাড়া শৌচাগারের পাশের কক্ষগুলো থেকে পলেস্তারা খুলে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য আবাসিক হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খেলার মাঠ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। বারবার প্রশাসনকে জানালেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবন তালা দিয়ে অবরোধ করেছে।

আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার হোসেন বলেন, ‘হল সংসদ গঠনের আগে থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে তা পিছিয়ে যায়।’

আবরার আরও বলেন, ‘বাধ্য হয়ে আমরা ২৭ আগস্ট উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয় ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।