ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের কোনোরকম আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কার্যালয় ও মধুর ক্যানটিনের মধ্যবর্তী স্থানে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত বুধবার স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন) আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়ে প্রশাসন বা এস্টেট অফিস—কারও কাছ থেকেই কোনোরকম অনুমতি নেননি ডাকসু প্রতিনিধিরা।’
প্রক্টর বলেন, ‘ঢাবিতে একটি গাছ লাগাতে কিংবা কাটতেও প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ প্রশাসনকে জানানোই হয়নি এবং প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কোনো ছাত্র সংগঠন, অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব, রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি অনুমতি না নিয়ে ক্যাম্পাসে কিছু লাগানো বা উচ্ছেদ করতে পারে না। কিন্তু ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্টেকহোল্ডার। ডাকসুর সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।’
ফরহাদের দাবি, ডাকসুর নির্বাহী কমিটির (ইসি) সভায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় তৎকালীন উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর মত, সমর্থন ও সম্মতি ছিল।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে ইসি মিটিংয়ে আমাদের আলাপ হয়েছিল, সেখানে ভিসি উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন ভিসির মতামত ছিল, সমর্থন ছিল এবং তিনি কনসার্ন ছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা গত আগস্টে এটি বাস্তবায়ন করেছি।’
ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের আগে মিলিয়ে ইসির দুটি মিটিং হয়েছে। সেখানে বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত ছিল এবং আলোচনা হয়েছে। সেখানে বর্তমান ভিসি স্যারও ছিলেন। বর্তমান ভিসি স্যার যদি ভিন্নমত পোষণ করতেন বা দ্বিমত দিতেন, তাহলে আমরা সেই অ্যাপ্রোচে যেতাম। যেহেতু ভিন্নমত আসেনি, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই হয়েছে।’
আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি বা লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ বলেন, ‘এটি পূর্ববর্তী উপাচার্যের সময়ের সিদ্ধান্ত ছিল এবং বর্তমান উপাচার্য উপস্থিত থাকাকালেও আমরা ইসি মিটিংয়ে এটি তুলেছি, যেখানে বর্তমান উপাচার্যের ভিন্নমত ছিল না।’