গবেষণা ও প্রকাশনায় অনন্য অবদানের জন্য উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও গবেষকদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক গবেষণা ও প্রকাশনা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মাল্টিপারপাস হলে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক প্রকাশনার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিআরটি) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ২০২৫ সালে ওয়েব অব সায়েন্স ও স্কোপাসে জায়গা করে নেওয়া বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রকাশনায় সম্মিলিত অবদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রকাশনা ও গবেষণার জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় একটি করে সনদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও আইসিসিডিআর, বি-এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিডিআর, বি-এর মানবসম্পদ উপদেষ্টা ড. মো. মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআরটি-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সুলতানুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর হাসপিয়া বশিরুল্লাহ, সিআরটি-এর সহযোগী পরিচালক ড. সালেহ আহমদ এবং সিআরটি-এর অন্যান্য নির্বাহী সদস্য। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে গবেষণা ও প্রকাশনায় অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে তিনজন গবেষককে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বেষ্ট হাই ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন নূর আহাম্মদ, মোস্ট পাবলিশড পেপার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ড. মো. শফিউল আলম চৌধুরী এবং বেষ্ট আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মো. হানিফ মুন্সি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও অর্জন নিয়ে উপস্থাপনায় ড. সালেহ আহমদ উত্তরা ইউনিভার্সিটির গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় স্কোপাসে সূচিবদ্ধ গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উৎপাদনশীলতা ও গবেষণার প্রভাব বৃদ্ধির প্রতি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বেশি নারী গবেষককে এগিয়ে আসার এবং অর্থবহ গবেষণায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও জীব বিজ্ঞান বিষয়ে বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে গবেষণার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘একাডেমিক, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে উত্তরা ইউনিভার্সিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি গবেষণা প্রকল্প, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং গবেষণা প্রকাশনায় সহায়তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকদের ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রকাশনা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং গবেষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সুলতানুল ইসলাম বলেন, ‘গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উচ্চমানসম্পন্ন ও প্রভাবশালী গবেষণায় উৎসাহিত করার বিষয়ে উত্তরা ইউনিভার্সিটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংগুলোতে উত্তরা ইউনিভার্সিটির অবস্থান আরও এগিয়ে নিতে মানসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিকল্প নেই।’ সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও কর্মকর্তাকে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।