ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দুঃশাসন ও বৈষম্যের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।’
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর বয়ান সৃষ্টির চেষ্টা নিন্দনীয়। আন্দোলনে মানবতাবিরোধী ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাগলে বাংলাদেশ জাগে।’
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ঢাবির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি, ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বক্তব্য দেন। এ ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ ইয়ামিনের বাবা মহিউদ্দিন এবং শহীদ মো. আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।