জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মৌন মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে আজ বুধবার দুপুরে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
সমাবেশে বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব উল্লেখ বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগেই অন্তত অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হবে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ‘অদায়িত্বশীল’ মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘অশোভন আচরণের’ দায়ে সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তাহসীব পরামর্শ দেন, প্রশাসনের উচিত ছিল কাউন্সেলিং বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা। তিনি জাবি আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ অভিযোগ করেন যে, জাবি প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই দমনের পরিবেশ তৈরি করছে।’ তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচারের অভাব এবং প্রশাসনের অসংবেদনশীল আচরণ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।
শামসুল আলম মারুফ আরও বলেন, ‘একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত অভিভাবকের মতো। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিদি জাফরাত বলেন, ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে নারীদের এখনো রাজপথে নামতে হচ্ছে। বিষয়টি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ‘লজ্জাজনক’। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।