মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রাজকীয় স্কলারশিপ ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চতর গবেষণার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় সুযোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য এই বৃত্তির আবেদন করতে পারবেন।
সৌদি আরবের লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় এবং সর্বাধুনিক গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিদ্যায় উচ্চতর গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অত্যাধুনিক গবেষণাগার এবং বিশ্বখ্যাত অধ্যাপকদের সান্নিধ্য পাওয়ার কারণে একে মধ্যপ্রাচ্যের ‘এমআইটি’ বলা হয়ে থাকে।
সুযোগ-সুবিধা
এই স্কলারশিপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত বা ‘ফুল-ফান্ডেড’ প্রোগ্রাম। ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে কোনো ধরনের আবেদন ফি লাগবে না। আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ২০-৩০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪ থেকে ৩৬ লাখ টাকা) জীবনযাত্রা উপবৃত্তি বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। যার পরিমাণ প্রার্থীর যোগ্যতা ও ডিগ্রির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত আবাসন বা হাউসিং সুবিধা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। শারীরিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করে এই বৃত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি নিজ দেশ থেকে সৌদি আরবে আসা-যাওয়ার খরচ বা স্থানান্তর সহায়তার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আবেদনের যোগ্যতা
কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটির বৃত্তির জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন। এই বৃত্তির আওতায় মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। ডক্টরাল বা পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য প্রার্থীর মাস্টার্স ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক ক্ষেত্রে চমৎকার ফলাফলের অধিকারী এবং মার্জিত আচরণের হতে হবে। এই স্কলারশিপ চলাকালে শিক্ষার্থী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎস থেকে বৃত্তি গ্রহণ করতে পারবেন না।
প্রয়োজনীয় তথ্য
আবেদনকারীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিশিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার উদ্দেশ্যসংবলিত ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ প্রস্তুত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থীর শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনের বিস্তারিত বিবরণসহ একটি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত এবং পাসপোর্টের বৈধ কপি জমা দিতে হবে। তিনজন শিক্ষক বা সুপারভাইজরের কাছ থেকে তিনটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে টোয়েফল পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭৯ স্কোর অথবা আইইএলটিএসে ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: আগামী ১১ এপ্রিল, ২০২৬।