হোম > শিক্ষা

রিভিশনের চেয়ে স্মরণ করা বেশি জরুরি

শিক্ষা ডেস্ক

পরীক্ষা যত এগিয়ে আসে, পড়ার টেবিলে একটি শব্দের আনাগোনা ততই বাড়ে। আর সেটি হচ্ছে ‘রিভিশন’। মনে হয়, ভালো ফলের চাবিকাঠি শুধুই রিভিশন দেওয়া।

একটি বিষয় ভালোভাবে শিখেছ, বুঝেছ। তাহলে পরীক্ষার আগে আবার বই খুলে হুবহু পড়ে যাওয়ার দরকারটা কী? তাই রিভিশন নয়, বরং স্মরণে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

হাবিবা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরীক্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে। হাবিবাকেও বলা হচ্ছে রিভিশন দিতে। বিজ্ঞান বইটি সে আগেই পড়েছে। শুধু পড়েই থেমে নেই, প্রতিটি অধ্যায়ের ভিডিও দেখেছে। গুগলে খুঁজে নতুন নতুন বিষয় জেনেছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছে নিজে। বইয়ের বাইরের অনেক কিছু এখন তার জানা। হাবিবা বদলে ফেলেছে পড়ার কৌশল। বই সামনে রেখে নিজেই নিজের পরীক্ষা নিচ্ছে। খাতা-কলম হাতে বসে নিজেকে প্রশ্ন করছে। উত্তর মনে করার চেষ্টা করছে। মনে যা আসছে, লিখে ফেলছে।

মনে করার খেলাই আসল

আবার নিউক্লিয়ার ফিউশন। হাবিবা জানে, দুটি হালকা নিউক্লিয়াস এক হয়ে তৈরি করতে পারে একটি ভারী নিউক্লিয়াস। এই প্রক্রিয়াই নিউক্লিয়ার ফিউশন। এখানে ১ + ১ = ২ হয় না। সামান্য ভর রূপ নেয় শক্তিতে। বেরিয়ে আসে তাপ ও আলো। সূর্যের ভেতরেও এমন বিক্রিয়া ঘটে। হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস মিলেই তৈরি হয় হিলিয়াম। সেই বিক্রিয়ায় তৈরি শক্তিরই আলো এসে পৌঁছায় পৃথিবীতে। তাই পরীক্ষার আগে তার কাজ বই খুলে একই কথা আবার পড়া নয়; বরং বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করা—‘আমি কি এটা মনে করতে পারছি?’ এই পদ্ধতির নাম সক্রিয় স্মরণ। অর্থাৎ, শুধু পড়ে যাওয়ার বদলে মস্তিষ্ককে দিয়ে তথ্যটি মনে করিয়ে নেওয়া।

পড়া মানে শুধু চোখ বোলানো নয়

পড়াকে আমরা ভুলভাবে বুঝি। বই খুললাম। পড়লাম। নোট করলাম। তারপর মনে হলো, পড়া হয়ে গেছে। আসলে পড়া তখনই কাজে লাগে, যখন বই বন্ধ করার পরও বিষয়টি নিজের ভাষায় বলা যায়। একটি গল্প পড়ার পর যেমন গল্পটি মনে থাকে। একটি সিনেমা দেখার পর যেমন সেটির কাহিনি বলতে নোট লাগে না, মনে গেঁথে যায়। শেখার ব্যাপারটিও তেমন। ‘নোট নিই’—কেন? একদিন একটি বিষয় বুঝতে না পেরে হাবিবাকে ফোন করল তার বন্ধু রোহান। হাবিবা বোঝাতে শুরু করতেই রোহান বলল, ‘এক মিনিট, নোট নিয়ে নিই।’ হাবিবা থামিয়ে দিল তাকে। ‘নোট নিতে হবে কেন? আগে বুঝে নে।’ রোহান অবাক। হাবিবা বলল, ‘সায়েন্স ফিকশন সিনেমা দেখতে বসলে কি নোট নিতে থাকিস? দেড় ঘণ্টা পর তো পুরো গল্পটা বলে দিতে পারিস।’ শেখা মানে বইয়ের বাক্য মুখস্থ নয়, বিষয়টি নিজের ভাষায় বুঝে প্রয়োজনে অন্যকে বোঝাতে পারা।

বই বন্ধ করেই শুরু হোক পড়া

পরীক্ষার আগে শুধু বই খুলে বসে থেকো না। মাঝে মাঝে বইটা বন্ধ করো। নিজেকে প্রশ্ন করো, ‘এই অধ্যায়ের মূলকথা কী?’ ‘আমি কি বিষয়টি কাউকে বোঝাতে পারব?’ ‘এই সূত্র কেন কাজ করে?’ ‘এর বাস্তব উদাহরণ কী?’ ‘বইটা বন্ধ থাকলে আমি কতটা বলতে পারি?’

যত বেশি উত্তর মনে করার চেষ্টা করবে, তত বেশি, বুঝবে তোমার ঘাটতি কোথায়। যেটা মনে আছে, সেটা আবার পড়ার দরকার নেই। যেটা মনে নেই, শুধু সেটুকুই দেখে নাও। শেখাটা গভীর হবে।

তাই পরীক্ষার আগে গড়গড় করে পুরো বই পড়ে যাওয়ার বদলে একটু থামো। বই বন্ধ করো। নিজের মস্তিষ্কের দরজায় কড়া নাড়ো। রিভিশনের চেয়ে স্মরণ করা বেশি জরুরি।