রোবট এখন আর কল্পকাহিনির বিষয় নয়। মানুষের নানা কাজে যুক্ত হচ্ছে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সময়ে শিশুদেরও রোবোটিকসের সঙ্গে পরিচিত করা দরকার। তবে শেখার শুরুটা হতে হবে আনন্দের, চাপ দিয়ে নয়।
শিশুর প্রথম শেখার জায়গা পরিবার। মা-বাবা বা বড় ভাইবোন রোবট এবং এআই সম্পর্কে সহজ ধারণা দিতে পারেন। কোন রোবট কী কাজ করে, কোথায় এআই ব্যবহার হয়—এসব নিয়ে গল্পের মতো করে কথা বলা যেতে পারে। এতে শিশুর মনে কৌতূহল তৈরি হবে।
শিশুরা খেলতে ভালোবাসে। সেই আনন্দকে শেখার কাজে লাগানো যায়। পাজল, বুদ্ধির খেলা, গল্প, ছবি কিংবা অ্যানিমেশনের মাধ্যমে রোবোটিকসের ধারণা দেওয়া যেতে পারে। রোবোটিকসের ভিডিও বা গেমও আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে দেখার পাশাপাশি প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিতে হবে।
রোবোটিকস শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজে কিছু তৈরি করা। বয়স অনুযায়ী রোবোটিকস কিট, সেন্সর, মোটর কিংবা আরডুইনোর সঙ্গে পরিচয় করানো যায়। শুরুটা হতে পারে ছোট কাজ দিয়ে—বাতি জ্বালানো, মোটর ঘোরানো, পাখা বা ছোট গাড়ি তৈরি করা। নিজের হাতে কিছু কাজ করলে শেখার আনন্দ বাড়ে।
রোবোটিকস অনেক সময় দলগত কাজ। তাই শিশুদের কয়েকজন মিলে ছোট প্রকল্প করতে দেওয়া যেতে পারে। কেউ নকশা করবে, কেউ প্রোগ্রামিং, কেউ যন্ত্রাংশ জোড়া দেবে। এতে সহযোগিতা, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়বে।
শিশুকে সব উত্তর বলে দেওয়ার চেয়ে প্রশ্ন করতে দেওয়া বেশি জরুরি। ‘রোবটটি কেন থামল?’ ‘সেন্সরটি কীভাবে কাজ করে?’—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সে শিখবে। ভুল হলেও তাকে আবার চেষ্টা করতে উৎসাহ দিতে হবে।
বিজ্ঞান মেলা, রোবোটিকস প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগও তৈরি করা দরকার। বড় কোনো রোবট দিয়ে নয়, ছোট একটি প্রকল্প দিয়েই শুরু হতে পারে বড় স্বপ্নের পথচলা।