হোম > শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি যেমন হওয়া চাই

লিমা আক্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেশের অনেক শিক্ষার্থীর। সেই স্বপ্নপূরণের পথে ভর্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তীব্র প্রতিযোগিতার এই পরীক্ষায় কয়েকটি নম্বরের ব্যবধানেও বদলে যেতে পারে মেধাক্রম, পছন্দের বিষয় বা কাঙ্ক্ষিত অনুষদে ভর্তির সুযোগ। তাই শেষ মুহূর্তে কত ঘণ্টা পড়া হলো, তার চেয়ে বেশি জরুরি পড়াশোনা কতটা কার্যকর হলো, ধারণা কতটা পরিষ্কার এবং পরীক্ষার হলে তা কতটা ভালোভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে।

প্রস্তুতির এই শেষ সময়ে নতুন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আগে পড়া বিষয়গুলো বারবার রিভিশন দেওয়া, ভুলগুলো খুঁজে বের করা, বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান এবং সময় ব্যবস্থাপনার অনুশীলন করা জরুরি। কোন ইউনিটের পরীক্ষার্থী কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন এবং পরীক্ষার হলে কী কী বিষয় মনে রাখবেন, তা নিয়েই এই আয়োজন।

বাংলা

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা বিষয়কে অবহেলার সুযোগ নেই। বাংলা প্রথম পত্রের ক্ষেত্রে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বইকে গুরুত্ব দিতে হবে। গদ্য ও পদ্যের প্রতিটি লাইন ভালোভাবে পড়ার পাশাপাশি কবি ও লেখকদের পরিচিতি, উল্লেখযোগ্য রচনা, কবিতা, উপন্যাস, গান ও ছোটগল্প সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

একবার পুরো বই পড়লেই প্রস্তুতি শেষ হবে না। গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বারবার পড়তে হবে। কোন লেখার সঙ্গে কোন তথ্য যুক্ত, তা নিজের মতো করে মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কোনো অধ্যায় বাদ দেওয়া ঠিক নয়। কারণ, বাদ দেওয়া অংশ থেকেও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।

বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ক্ষেত্রে নবম ও দশম শ্রেণির বোর্ড বইকে ব্যাকরণের মূল ভিত্তি হিসেবে নিতে হবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি বিষয় মানসম্মত সহায়ক বই থেকে অনুশীলন করা যেতে পারে। একই বিষয় বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে অনুশীলন করলে নিয়মগুলো আরও পরিষ্কার হবে। এতে নতুন ধরনের প্রশ্ন এলেও উত্তর করা সহজ হবে।

ভর্তি পরীক্ষার লিখিত অংশের জন্যও শুরু থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সঠিক শব্দচয়ন, শুদ্ধ বানান, প্রাঞ্জল ভাষা, গুছিয়ে উত্তর লেখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে লেখা শেষ করার দক্ষতা গড়ে তুলতে নিয়মিত ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিংয়ের চর্চা জরুরি।

ইংরেজি

ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালো করতে নিয়মিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। উচ্চমাধ্যমিকের ‘English for Today’ বইটি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। শুধু passage পড়লেই হবে না, প্রতিটি passage-এর মূল বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, শব্দের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ধারণাগুলো বুঝে পড়তে হবে। এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে অপশন না দেখেও সম্ভাব্য সঠিক উত্তর চিহ্নিত করা যায়।

ব্যাকরণের ক্ষেত্রে নিয়ম মুখস্থ করার চেয়ে নিয়মের প্রয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মানসম্মত বই থেকে নিয়মিত প্রশ্ন অনুশীলন করলে কোথায় কীভাবে নিয়ম প্রয়োগ করতে হয়, তা পরিষ্কার হবে। এর পাশাপাশি Vocabulary, Synonym-Antonym, Idioms and Phrases, Spelling, Proverbs, Pair of Words, Translation ও Literature প্রতিদিন অল্প অল্প করে অনুশীলন করতে হবে। শেষ সময়ে একসঙ্গে অনেক কিছু পড়ার চেয়ে নিয়মিত অল্প অল্প করে এগিয়ে যাওয়া বেশি কার্যকর।

লিখিত অংশে ভালো করতে ইংরেজি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা বাড়বে। সঠিক ব্যাকরণ, প্রাঞ্জল শব্দ এবং তথ্যসমৃদ্ধ বাক্য গঠনের জন্য নিয়মিত ইংরেজিতে ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিংয়ের অভ্যাস করতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান

সাধারণ জ্ঞানে ভালো করতে কৌশলগত প্রস্তুতি প্রয়োজন। অসংখ্য তথ্য মুখস্থ করার চেষ্টা না করে বিষয়গুলো ভাগ করে পড়তে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, জনপদ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, রাজনৈতিক পটভূমি এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো ভালোভাবে জানতে হবে। সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোও গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। কোনো ঘটনা শুধু কখন ঘটেছে বা কে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা জানলেই হবে না; ঘটনার পটভূমি, কারণ, প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক অংশেও বিস্তৃত প্রস্তুতি প্রয়োজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি, জাতিসংঘ, পরিবেশ সম্মেলন, গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি, মহাদেশ এবং প্রধান নদ-নদী সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। পাশাপাশি পৌরনীতি, ভূগোল, যুক্তিবিদ্যা, খেলাধুলা, নোবেল পুরস্কার এবং সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে নিয়মিত পড়তে হবে। সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতিতে দৈনিক রিভিশন গুরুত্বপূর্ণ। একবার পড়া তথ্য দ্রুত ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ছোট ছোট নোট তৈরি করে নিয়মিত সেগুলো দেখে নেওয়া যেতে পারে।

গ্রন্থনা: তানজিল কাজী