হোম > শিক্ষা

রাবিতে ফুটবল খেলায় ‘স্লেজিং’কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ১

রাবি প্রতিনিধি 

বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলায় ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিম ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ফুটবল দলের গোলরক্ষক।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ১৬-এর খেলায় বিকেল ৩টায় ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ম্যাচ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা থাকায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পেলে দুই বিভাগের দর্শকদের মধ্যে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসান আলম বলেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়েরা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে উদ্‌যাপন করছিলাম। তখন তাঁদের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের একজনের ইটের আঘাতে আমাদের গোলরক্ষক জিম ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।’

আহত শিক্ষার্থী আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিম। ছবি: আজকের পত্রিকা

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, ‘ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গেলে গ্যালারি থেকে স্লেজিং চলছিল। ইতিহাস বিভাগের জয়ের পর গ্যালারি থেকে আমাদের গোলরক্ষককে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। গোলরক্ষক বিষয়টি দেখালে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। ঘটনায় আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন। গ্যালারি ভেঙে আমাদের দর্শকদের দিকেও অনেকে তেড়ে আসেন। মাঠে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা টুকটুকি বলেন, ‘খেলাটি শুরু থেকে সুন্দরভাবেই চলছিল। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জেতার পর একপর্যায়ে মারামারি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার বিষয়টি আমি দেখিনি, তবে পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

রোকসানা টুকটুকি আরও বলেন, ‘আমি চাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। খেলোয়াড় প্রবেশের ক্ষেত্রে আমি নিজে গেটে তালিকা ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। তালিকার বাইরে কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’