চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এবার অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী।
গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ২২ হাজার ৩৫৬ শিক্ষার্থী। এবার ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এরপর পৃষ্ঠা ২ কলাম দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গতকাল সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। দাখিল এবং এসএসসি ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা খারাপ রেজাল্ট বলছেন কেন, রেজাল্ট তো সুন্দর হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে তো আর নম্বর দেওয়া যায় না।’
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা বেশি। এসএসসিতে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
পাসের ক্ষেত্রে অন্যান্য বছরের মতো এবারও এগিয়ে মেয়েরা। এবার মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন। মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে মেয়েরা। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে। সুতরাং যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, নির্মোহভাবে মূল্যায়ন হয়েছে। মূল্যায়নে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেভাবেই ফল এসেছে।’
চলতি বছর দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। এবার ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এই বোর্ডে ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন। পাসের হারে সব বোর্ডের নিচে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে বরিশাল বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এই বোর্ডে মাত্র ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পাসের হার সবচেয়ে কম মানবিক বিভাগে। এ বিভাগের ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। পাসের হারে শীর্ষে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যেসব পরীক্ষার্থী আশানুরূপ ফল পায়নি, তারা আজ মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে এবং বোর্ড ড্রপ ডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।