সাক্ষাৎকার

আচরণ, ব্যক্তিত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা

ভাইভা বোর্ড মূলত একজন প্রার্থীর জ্ঞানের গভীরতার চেয়ে তাঁর নেতৃত্বদানের সক্ষমতা এবং চাপের মুখে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা যাচাই করে। তাই বোর্ডে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে প্রস্থান পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপ হওয়া উচিত সুচিন্তিত ও মার্জিত। আসন্ন ৪৭তম বিসিএস ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য অভিজ্ঞতার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত এবং ৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে (মেধাক্রম-৭) সুপারিশপ্রাপ্ত ডা. আফিয়া তাসনীম।

প্রবেশ ও আসন গ্রহণ

ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের আগে নির্ধারিত স্থানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে ভেতরে প্রবেশের সময় হাতে ফাইল বা অপ্রয়োজনীয় কাগজ রাখার বাড়তি চাপ থাকে না। অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ এবং সদস্যদের সালাম জানানোর মধ্য দিয়ে আপনার সৌজন্যবোধের প্রথম প্রকাশ ঘটে।

অনুমতি পাওয়ার পর চেয়ারে বসার সময় খেয়াল রাখুন, যেন কোনো শব্দ না হয়। বসার ভঙ্গি হবে সোজা ও সাবলীল। হাত দুটি হাঁটুর ওপর স্থির রাখুন এবং অহেতুক নড়াচড়া বা সামনের টেবিলে হাত রাখা থেকে বিরত থাকুন। আপনার শারীরিক ভাষায় যেন জড়তা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়।

আই-কন্টাক্ট ও বাচনভঙ্গি

যিনি প্রশ্ন করছেন, তাঁর দিকে তাকিয়ে উত্তর দেওয়া শিষ্টাচারের অংশ। তবে উত্তরের মাঝে মাঝে বোর্ডের অন্য সদস্যদের দিকেও দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস ও সবাইকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতার পরিচায়ক।

ভাইভায় ভাষাগত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নকর্তা যে ভাষায় প্রশ্ন করবেন, উত্তরও সেই ভাষায় দেওয়া উত্তম। অর্থাৎ ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে এবং বাংলায় করলে বাংলায় উত্তর দিন। কথা বলার গতি যেন খুব দ্রুত বা খুব ধীর না হয়। স্পষ্ট উচ্চারণে প্রমিত ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজন।

বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও বিনয়

সব প্রশ্নের উত্তর সবার জানা থাকবে না, এটিই স্বাভাবিক। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে অমূলক অনুমান না করে বিনয়ের সঙ্গে তা স্বীকার করা উচিত। একে বলা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক সততা। সরাসরি ‘আমি জানি না’ না বলে, ‘দুঃখিত স্যার, এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার জানা নেই’ বা ‘দুঃখিত স্যার, বিষয়টি আমার মনে পড়ছে না’—এভাবে বললে তা অধিক মার্জিত ও পেশাদার শোনায়। কোনো বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে মতপার্থক্য হলে তর্কে না জড়িয়ে নিজের যুক্তি নম্রভাবে উপস্থাপন করুন। মনে রাখবেন, সিভিল সার্ভিসে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা একটি বড় গুণ।

পরিস্থিতি সামলানোর সক্ষমতা

কখনো কখনো বোর্ড সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল বা নেতিবাচক প্রশ্ন করে আপনার ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতা যাচাই করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে মুখে মৃদু হাসি রেখে শান্তভাবে উত্তর দেওয়া একজন ভবিষ্যৎ ক্যাডার কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পুরো সময় আপনার পরিমিতিবোধ বজায় রাখা জরুরি।

প্রস্থান ও কৃতজ্ঞতা

ভাইভা শেষে উঠে দাঁড়ানো এবং কক্ষ ত্যাগের সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। আসন ত্যাগের আগে বোর্ডের কাছে জমা রাখা কোনো কাগজপত্র থাকলে তা বিনয়ের সঙ্গে সংগ্রহ করুন। এরপর সবাইকে ধন্যবাদ ও সালাম জানিয়ে মার্জিতভাবে কক্ষ ত্যাগ করুন। দরজা খোলা বা বন্ধ করার সময় যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আপনার প্রস্থান যেন প্রবেশের মতোই সুশৃঙ্খল ও মার্জিত হয়।

বিসিএস ভাইভায় আপনার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটে। এখানে জ্ঞানের গভীরতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সততা, বিনয় এবং সিভিল সার্ভিসে কাজ করার মানসিকতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানসিক দৃঢ়তা ও শান্ত থাকা আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে। তাই নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রাখুন এবং হাসিমুখে বোর্ড মোকাবিলা করুন।

আপনার এই দীর্ঘ পথচলা সফল হোক এবং কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশসেবার সুযোগ তৈরি হোক—সেই শুভকামনা রইল। সঠিক প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাসই হোক আপনার সাফল্যের সেতু।

অনুলিখন: জেলি খাতুন

প্রশ্নফাঁসের গুজব রোধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

ভর্তি জটিলতায় ১ বছরে অপচয় হচ্ছে ‘৪০ লাখ’ বছর: শিক্ষামন্ত্রী

বিদেশে গিয়ে পড়তে চাইলে যেসব বিষয় জানা জরুরি

পড়াশোনায় ভালো করার ১০ উপায়

বুটেক্সে চাকরির মেলা সিভি হাতে স্বপ্নের পথে

পরিবর্তনশীল বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

বাকৃবিতে জীববিজ্ঞান উৎসব

তপ্ত গ্রীষ্মে জারুলের ছোঁয়া

বাঙলা কলেজ প্রাক্তন রোভারদের পুনর্মিলনী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়াচ্ছে অসাধু চক্র, সতর্ক করল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড