এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত ফলে কেউ আশানুরূপ সাফল্য পেয়েছেন, আবার কেউ প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন। তবে হতাশ হয়ে বসে থাকার সময় নেই। সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লড়াই। তাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আর যাঁরা ভালো ফল করেছেন, তাঁদেরও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভর্তি পরীক্ষায় বি ও সি ইউনিটে সুযোগ পাওয়া রাদিয়া শানজান ইশমা। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
জাবির বি ইউনিটে আইন এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং সি ইউনিটে কলা ও মানবিক অনুষদ এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট। বিগত সালে সি ইউনিটে আইন বিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এবার বি ইউনিটে আইন বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বি ও সি ইউনিটে ৯০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ১০ নম্বর যুক্ত হবে এসএসসি ও এইচএসসির ফল থেকে। ভর্তি পরীক্ষায় ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। মোট ৬০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১.১২৫, ভুল উত্তরের জন্য ০.২০ নম্বর কাটা যাবে। সেকেন্ড টাইমারদের কোনো নম্বর কাটা যাবে না।
বি ইউনিটে বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০, সাধারণ গণিতে ২০, সাধারণ জ্ঞানে ১৫ এবং গাণিতিক যুক্তি অংশে ৫ নম্বরের পরীক্ষা হয়। বাংলার জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই এবং ব্যাকরণের জন্য মুনীর চৌধুরীর বই অনুসরণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ব্যাকরণ বইগুলোও পড়া যায়। ইংরেজির জন্য নির্ভরযোগ্য বই থেকে গ্রামার এবং ভোকাবুলারি অংশ চর্চা করতে হবে। ইংরেজি প্রশ্নের মধ্যে একটি বড় আকারের স্ট্যান্ডার্ড আনসিন প্যাসেজ দেওয়া থাকে। সেখান থেকে প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। প্যাসেজ থেকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়। এ জন্য ভোকাবুলারির ওপর ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। পরীক্ষার্থীরা প্যাসেজ পড়ে উত্তর করতে গিয়ে বাকি প্রশ্ন সমাধানের সময় পান না। এ জন্য প্রথমে যে প্রশ্নগুলোতে সময় কম লাগছে সেগুলো উত্তর করতে হবে। সাধারণ গণিতের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের অঙ্কই দেওয়া থাকে। সাধারণ বীজগণিত, সেট, শতকরার অঙ্ক থাকে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি-সম্পর্কিত প্রশ্ন আসবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাজারে প্রচলিত এবং নির্ভরযোগ্য বই থেকে চর্চা করতে হবে। আইকিইউ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটি মূলত চর্চা এবং বুদ্ধির বিষয়।
সি ইউনিটে কলা অনুষদভুক্ত বিষয়গুলো রয়েছে। এতে বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞান ও বিভাগসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এখানে বাংলা ও ইংরেজির জন্য বি ইউনিটের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলেই হবে। ইংরেজির ক্ষেত্রে এনালজিও আসে। তাই এটা একটু গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে। এখানে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে বিভাগসংশ্লিষ্ট বিষয় বুঝতে। এতে ইতিহাস, দর্শন, প্রত্নতত্ত্ব, সাংবাদিকতা, বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, তুলনামূলক সাহিত্যতত্ত্ব থেকে বিভাগ আকারে প্রশ্ন আসে। সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো ইংরেজিতে করা হয়। ইংরেজিতে প্রশ্ন বোঝার জন্য প্রশ্নব্যাংক দেখে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত শিফটভিত্তিক পরীক্ষা হয় এবং ছেলেমেয়েদের আলাদা পরীক্ষা হয়। শিফটভিত্তিক প্রশ্নও আলাদা করা হয়। এ জন্য একেক শিফটের প্রশ্ন একেক শিফট থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। তা ছাড়া, এবার বি ইউনিটে আইন অনুষদের পরীক্ষা হওয়ায় এর গুরুত্ব ব্যাপক।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে স্মার্ট প্রস্তুতির পাশাপাশি পরীক্ষার হলে মাথা ঠান্ডা রাখাও জরুরি। কোনো একটি বইয়ের ওপর নির্ভর না করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বেছে পড়তে হবে। প্রশ্নব্যাংক সমাধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তা বুঝে সংশ্লিষ্ট টপিকগুলো বারবার ঝালাই করতে হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে নিয়মিত জাতীয় দৈনিক পড়তে হবে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খবর ও নিবন্ধের শিরোনাম দেখে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিস্তারিত পড়া যেতে পারে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে হবে। এতে ভুল চিহ্নিত করার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা ও নির্ভুলভাবে উত্তর দেওয়ার দক্ষতা বাড়বে। উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে নেতিবাচক নম্বর হারাতে না হয়। মনে রাখতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় সফলতাই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। এটি জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। তাই হতাশ না হয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।