জেনে নিন
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষেরা শুধু অর্থের জোরেই শীর্ষে ওঠেননি, তাঁদের সাফল্যের পেছনে আছে কৌতূহল, কঠোর পরিশ্রম আর শেখার অদম্য ইচ্ছা। কেউ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, কেউ আবার মাঝপথেই ছেড়ে দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। তবু থেমে থাকেননি। স্বপ্নকে সঙ্গী করেই গড়ে তুলেছেন ইতিহাসের অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠান। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের পাঁচ ধনকুবেরের শিক্ষাজীবনের গল্প।
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তিনি প্রথমে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন, পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পদার্থবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে (ইকোনমিকস) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শুরু করলেও মাত্র দুই দিন পরই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে সেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
ওরাকল করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও চিফ টেকনোলজি অফিসার ল্যারি এলিসনের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২৭০ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো ও ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসে পড়েন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকলেও স্বপ্ন থেমে থাকেনি। ১৯৭৭ সালে তিনি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ওরাকল করপোরেশন নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও দ্বিতীয় বর্ষেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। কারণ, তখন তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল নতুন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরিতে। সেই উদ্যোগই পরে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে রূপ নেয়। ছাত্রজীবনে গণিত, বিজ্ঞান ও ক্ল্যাসিক্যাল স্টাডিজে তাঁর আগ্রহ ও দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়।
বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি তাঁর আগ্রহ গড়ে ওঠে। সেই আগ্রহ একসময় জন্ম দেয় আমাজনের।
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১৭৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা নেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় সের্গেই ব্রিনের। সেই পরিচয় থেকে জন্ম নেয় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ মার্কোনি পুরস্কার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
এই পাঁচ ধনকুবেরের শিক্ষাজীবন এক নয়। কেউ বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছেন, কেউ আবার ডিগ্রি শেষ না করেই নিজের পথ তৈরি করেছেন। তবে একটি জায়গায় তাঁরা সবাই এক—শেখার আগ্রহ কখনো হারাননি। নতুন ধারণা, নতুন প্রযুক্তি আর নতুন সম্ভাবনার খোঁজই তাঁদের পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের কাতারে।