হোম > শিক্ষা

বন্ধুত্ব যে রং কখনো ফিকে হয় না

আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস

মালিহা মেহনাজ

স্কুলের বেঞ্চ, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডর, ক্যানটিনের ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা; কিংবা গভীর রাতে হঠাৎ বেজে ওঠা একটি ফোন। জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর অনেকটাই জড়িয়ে থাকে বন্ধুদের ঘিরে।

বন্ধুত্বকে কোনো নিক্তিতে মাপা যায় না। সংজ্ঞার গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় না। শুধু অনুভব করা যায় আপন মহিমায়। এটি অনুভবের, বিশ্বাসের আর নির্ভরতার এক অনন্য সম্পর্ক। তাই প্রতিবছরের আগস্ট মাসের প্রথম রোববার আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস হিসেবে ফিরে আসে।

বন্ধুত্বের কথা উঠলেই মনে পড়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তাঁর সাহিত্যজুড়ে ছড়িয়ে আছে বন্ধুত্বের গভীর দর্শন। তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুত্ব আটপৌরে, ভালোবাসা পোশাকী। বন্ধুত্বের আটপৌরে কাপড়ের দুই-এক জায়গায় ছেঁড়া থাকিলেও চলে...গায়ে দিয়া আরাম পাইলেই হইল।’ এই উপমায় বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ধরা পড়ে। এখানে বাহ্যিক আড়ম্বরের কোনো স্থান নেই। আছে স্বাভাবিকতা, সহজতা আর নিঃশর্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা।

রবীন্দ্রনাথ বন্ধুত্বকে শুধু দুজন মানুষের সম্পর্ক হিসেবে দেখেননি। তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুত্ব বলিতে তিনটি পদার্থ বুঝায়। দুই জন ব্যক্তি ও একটি জগৎ।’ অর্থাৎ, সত্যিকারের বন্ধুত্ব দুজন মানুষকে ঘিরে নতুন একটি পৃথিবী তৈরি করে।

এই ভাবনারই আরেকটি সুন্দর প্রকাশ তাঁর বিখ্যাত উক্তিতে, ‘গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল, বন্ধু তেমনি একটি বিশেষ জাতের মানুষ।’ সব মানুষের ভিড়ে সত্যিকারের বন্ধু তাই আলাদা হয়ে ওঠেন তাঁর আন্তরিকতা, বিশ্বাস আর মানবিকতায়।

বন্ধুত্বের এই দর্শন শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নয়; গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলও বলেছিলেন, ‘বন্ধুত্ব হলো দুই দেহে বাস করা এক আত্মা।’ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই উপলব্ধির আবেদন আজও এতটুকু ম্লান হয়নি।

ক্যাম্পাসে বন্ধুত্বের জন্ম

‘পুরোনো সেই দিনের কথা, ভুলবি কি রে হায়’—বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ এলে যেন অজান্তেই কানে ভেসে আসে রবীন্দ্রনাথের এই গান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে সবার গল্প আলাদা। কেউ আসে মফস্বল থেকে, কেউ জেলা শহর ছেড়ে, কেউবা ব্যস্ত নগরের অন্য প্রান্ত থেকে। ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘ যাত্রা শেষে সবাই যখন একই শ্রেণিকক্ষে বসে, চারপাশে তখন শুধু অচেনা মুখ।

শুরুতে থাকে সংকোচ। তারপর একদিন নোট ভাগাভাগি করতে করতে, গ্রুপ প্রেজেন্টেশনের প্রস্তুতিতে, কিংবা শেষ বেঞ্চের হাসি-ঠাট্টায় অচেনা মানুষগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কাছের মানুষ।

এরপর বন্ধুত্ব শুধু ক্লাসরুমে আটকে থাকে না। করিডরের গল্প, লাইব্রেরির নীরব বিকেল, ক্যানটিনের এক কাপ চা, বিভাগের অনুষ্ঠান, বৃষ্টিভেজা ক্যাম্পাস কিংবা পরীক্ষা শেষে স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস—সব স্মৃতির কেন্দ্রে থাকে বন্ধুরাই।

পরিবার থেকে দূরে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বন্ধুরাই হয়ে ওঠে দ্বিতীয় পরিবার। অসুস্থ হলে ওষুধ এনে দেওয়া, মন খারাপের দিনে চুপচাপ পাশে বসে থাকা কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই একসঙ্গে হেসে ওঠা—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই বন্ধুত্বকে অসাধারণ করে তোলে।

সময় বদলায়। পুরোনো বেঞ্চে বসে নতুন মুখ। তবু বহু বছর পর ফোনের গ্যালারিতে জমে থাকা একটি ছবি কিংবা পুরোনো কোনো অ্যালবাম খুললেই মনে হয়—জীবনের সবচেয়ে নির্মল দিনগুলো যেন সেখানেই রয়ে গেছে।

তাই বন্ধু দিবস এলে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে ক্যাম্পাসের সেই ফেলে আসা আড্ডাগুলোর কথা। কারণ, সবচেয়ে দীর্ঘ স্মৃতিগুলো ঠিক সেখানেই যে বাস করে।

বন্ধুত্ব মানেই সম্পর্কের ভিত

কবীর সুমনের ‘তোমায় আমি গড়তে চাই না...’ কিংবা মান্না দে’র ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’—এই গানগুলোর প্রতিটি লাইনে বন্ধুত্বের অনুভূতি ধরা পড়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী পুষ্পিতা লোধ বলেন, বাস্তব জীবনেও বন্ধুত্ব ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সম্পর্কের ভিতই আসলে বন্ধুত্ব। বন্ধুরা আনন্দকে দ্বিগুণ করে, কষ্টকে অর্ধেক করে দেয়। কখনো ভুল ধরিয়ে দেয়, কখনো সাহস জোগায়, আবার কখনো নিঃশব্দে পাশে দাঁড়িয়ে শক্তি হয়ে থাকে।’

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অ্যালবামগুলোতে পরিবারের পরেই থাকে বন্ধুদের মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সৈয়দুর রহমানের মতে, বন্ধুত্ব মানে শুধু একসঙ্গে পথচলা নয়; অগণিত স্মৃতি, রাতভর আড্ডা, এক প্লেট খাবার ভাগ করে খাওয়া আর কঠিন সময়ে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ানো। সত্যিকারের বন্ধু জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাই বন্ধুত্ব টিকে থাকুক বিশ্বাস, সম্মান আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী তানজিল কাজী বলেন, ‘জীবনের পথে অনেক মানুষ আসে-যায়। কিন্তু প্রকৃত বন্ধু সেই মানুষ, যে সময়, দূরত্ব কিংবা পরিস্থিতি বদলালেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ভোলে না। রাগ-অভিমান কিংবা ভুল-বোঝাবুঝি সাময়িক দূরত্ব তৈরি করতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্বকে ভাঙতে পারে না। বন্ধুত্ব শুধু সহপাঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা যেকোনো শুভাকাঙ্ক্ষীও হতে পারেন প্রকৃত বন্ধু। আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস সেই অমূল্য সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক সুন্দর উপলক্ষ।’

বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য, এটি কোনো শর্ত যে মানে না। বয়স, দূরত্ব, সময় কিংবা অবস্থান—কোনো কিছুই তাকে আটকে রাখতে পারে না। পৃথিবী যতই ব্যস্ত হয়ে উঠুক, প্রযুক্তি মানুষকে যতই ভার্চুয়াল করে তুলুক, একজন সত্যিকারের বন্ধু বাস্তবের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়েই থাকেন।

একটি ফোন, একটি ছোট্ট বার্তা কিংবা আন্তরিক একটি প্রশ্ন—‘কেমন আছ?’ বন্ধুত্বকে নতুন করে বাঁচিয়ে রাখার জন্য হয়তো এতটুকুই যথেষ্ট।

এগিয়ে আনা হলো ‎১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের যোগদানের তারিখ‎

জবিতে এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ১২ আগস্ট পর্যন্ত

অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

পৃথ্বী সাহার বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন জয়

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যার্তদের পাশে নোবিপ্রবি

ডিজিটাল যুগে সফল হতে কেন পড়াশোনা জরুরি

কানাডায় অন্টারিও গ্র্যাজুয়েট বৃত্তি

সবুজ উপহারে নবীনদের স্বাগত

গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের, না মানলে কঠোর আন্দোলন