বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠলেই পড়াশোনার চাপ কমে, এমন ধারণা অনেকেরই থাকে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। একটার পর একটা কুইজ, মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন। এরপর আসে সেমিস্টার ফাইনাল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও কম ঝক্কি নেই। আজ এক বিষয়ের বাড়ির কাজ, কাল আরেক বিষয়ের পরীক্ষা। এত কিছু মনে রাখা তাই বেশ কঠিন। তবে প্রযুক্তি পারে এই ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দিতে। রয়েছে এমন কিছু প্ল্যানার অ্যাপ, যেখানে ক্লাস, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্ট সবকিছু এক জায়গায় গুছিয়ে রাখা যায়। কোনো কোনো অ্যাপ আবার গুগল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সময়মতো মনে করিয়েও দেয়। এমন চারটি অ্যাপের কথা থাকছে এখানে।
নামেই যার পরিচয়। পড়াশোনার পরিকল্পনা গুছিয়ে রাখার কাজটিই এর মূল উদ্দেশ্য। এতে ক্লাসের রুটিন লিখে রাখা যায়। কোন সময়ে কোন ক্লাস, তা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে মনে করিয়ে দেয় অ্যাপটি। বিষয় বা কোর্স আলাদা করে চেনার জন্য ব্যবহার করা যায় ভিন্ন ভিন্ন রং। চাইলে শিক্ষকের ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাও সংরক্ষণ করা যায়। গুগল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পরীক্ষার সময়ও সহজে ট্র্যাক করা যায়। আছে সিজিপিএ হিসাবের সুবিধাও। কোন কোর্সে কখন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে, পরীক্ষার তারিখ কী—সবই রাখা যায় এক জায়গায়। টু-ডু লিস্টে আবার প্রতিটি কাজ কতটা এগিয়েছে, সেটিও দেখা যায়। অ্যান্ড্রয়েডের পাশাপাশি ডেস্কটপেও ব্যবহার করা যায় অ্যাপটি।
ক্লাস, বাড়ির কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট কিংবা পরীক্ষা—সবকিছুর হিসাব রাখতে পারবেন মাই হোমওয়ার্কে। এর রিমাইন্ডার সুবিধা সময়মতো মনে করিয়ে দেবে জরুরি কাজের কথা। ফলে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ কিছুটা কমানো সম্ভব। প্রিমিয়াম সংস্করণও রয়েছে। বছরে ৪ দশমিক ৯৯ ডলারে পাওয়া যায় এই সংস্করণ। এতে ফাইল যুক্ত করা, বাইরের ক্যালেন্ডার ব্যবহার ও প্ল্যানার অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার সুবিধা রয়েছে। হোমওয়ার্কের সফট কপিও সংরক্ষণ করা যায়। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও ডেস্কটপ—তিন প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যায় অ্যাপটি।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার রুটিন গুছিয়ে রাখার আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাপ মাই স্টাডি লাইফ। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার তথ্য এক জায়গায় রাখার সুবিধা রয়েছে এতে। তবে এর বড় সুবিধা হলো ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ। ফলে ডিভাইস বদলালেও আগের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। অন্য ডিভাইস থেকেও নিজের তথ্য ব্যবহার করা যায়। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও ডেস্কটপ—সব মাধ্যমেই ব্যবহার করা যায় অ্যাপটি।
সহজ-সরলভাবে পড়াশোনার কাজ গুছিয়ে রাখতে চাইলে ই-অ্যাজেন্ডা হতে পারে ভালো সঙ্গী। এতে ক্লাসের সময়সূচি ও বিভিন্ন টাস্ক সহজেই সাজিয়ে রাখা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, এটি ব্যবহারের জন্য কোনো সাবস্ক্রিপশন কেনার প্রয়োজন নেই। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস—দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যায় অ্যাপটি।
সূত্র: ই-স্টাডি হ্যাকস